কী করে এলো

উড়ন্ত অস্ট্রিচ!

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২০:০৭
ছোটবেলায় কিংবা একটু বড় হয়ে পরীক্ষা পাসের জন্য আপনাকে কখনও সাধারণ জ্ঞান পড়তে হয়েছে কি না কে জানে? তবে যদি সাধারণ জ্ঞান মুখস্থ করার অভ্যাস থাকে কিংবা যদি পাখিকূল সম্পর্কে সাধারণ একটু জ্ঞানও থাকে তাহলেও এটা বেশ ভালো করেই জানা থাকার কথা যে, নামে পাখি হলেও আদতে একেবারেই উড়বার ক্ষমতা নেই যার সে হলো অস্ট্রিচ পাখি। বিষয়টা এমন নয় যে কখনও সখনও দু’একটা অস্ট্রিচ চেষ্টা করে একটু আধটু উড়তে পারে। আসলে অস্ট্রিচের শরীরটাই এত বিশাল যে পাখা ঝাপটে তাকে টেনে তোলা সহজ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার আর মানুষের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হঠাত্ যদি আপনার ঠিক মাথার ওপর দিয়েই উড়ে যেতে দেখেন দশাসই কোনো অস্ট্রিচকে তাহলে নিশ্চয়ই ভীষণরকম চমকে উঠবেন আপনি। আর নিজের এলাকার মানুষদের জন্য চমকে দেবার এমন এক উপলক্ষই তৈরি করেছেন ডাচ উদ্ভাবক বার্ট জেনসন। একটানা প্রায় ১২ মাস খাটা-খাটুনি করে তিনি সম্প্রতি সত্যিই আকাশে উড়িয়ে ছেড়েছেন একটি অস্ট্রিচকে। জীবন্ত অস্ট্রিচকে আকাশে ভাসাতে না পারলেও একটি মৃত অস্ট্রিচের দেহকে মমি করার মাধ্যমে সেটিকে সফলভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করাতে সক্ষম হন বার্ট। আর এজন্য স্থানীয় একটি ফার্ম থেকে মৃত অস্ট্রিচ সংগ্রহ করে তার পেটের দিকটায় রীতিমতো বিমানের ইঞ্জিন আর প্রপেলার বসিয়ে দেন বার্ট এবং তার সহকারি প্রকৌশলী আর্জেন বেল্টম্যান। এক্ষেত্রে ইঞ্জিন ও প্রপেলারের কথা শুনে এটাকে মামুলি একটা বিষয় বলে ধরে নিচ্ছেন তাদের জন্য বার্ট এর এই বক্তব্যটাও পড়া জরুরি—‘প্রথম প্রথম আমি এটাকে মজার একটা কাজ হিসেবেই নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম খুব সহজেই হয়তো এটা হয়ে যাবে। কিন্তু একটা প্রাণীদেহকে আকাশে ভাসানো যে কতটা কষ্টকর সেটা বিমান উড্ডয়ন আর তৈরি করার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ এদিকে আসলে মমি করা মৃত অস্ট্রিচ হলেও যারা মাটি থেকে বেশ অনেকটা উঁচুতে এই অস্ট্রিচটিকে উড়তে দেখেন তাদের পক্ষে চট করে বিষয়টা ধরা সম্ভব হয় না এবং কিছুক্ষণের জন্য হলেও একটা দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে যান। উল্লেখ্য, এবার অস্ট্রিচ ওড়ানো নিয়ে আলোচনায় এলেও দূর-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এভাবে কোনো প্রাণীদেহকে আকাশে ভাসানোর কীর্তি বার্টের এবারই প্রথম নয়। এর আগে নিচের প্রিয় বিড়াল অরভিলের মৃত্যুর পর সেটিকেও হেলিকপ্টারে রূপ দিয়েছিলেন এই বার্ট জেনসন।