গ্রামীণ পরিবেশ দূষণ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৩
আজকাল গ্রামেও ঘটছে ব্যাপকভাবে পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, ভূমিদূষণ, শব্দদূষণ। কৃষিকাজে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক রাসায়নিক সার প্রয়োগে দূষণ ঘটছে। আবার কৃষিজমি, লোকালয়ে যত্রতত্র স্থাপিত ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশদূষণ ঘটছে ব্যাপক মাত্রায়। ইটভাটার ধোঁয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস উত্পন্ন হয় এবং বায়ুতে তাপ বেড়ে যায়, অন্যদিকে ভাটার তাপে তপ্ত হয় সংশ্লিষ্ট এলাকা। এতে কৃষিফসল উত্পাদন ব্যাহত হয়। উত্পাদনও কমে যায়। আবার গ্রামাঞ্চলে যানবাহন হিসেবে ভটভটি, নছিমন, কাঁকড়া জাতীয় বাহনের সংখ্যা বাড়ছে, যা শব্দদূষণ ঘটায় ব্যাপকহারে। ইটভাটার মাটি সংগ্রহের জন্য কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে ফেলার জন্য উর্বরাশক্তিসম্পন্ন মাটি চলে যাচ্ছে, যা পূরণ করতে দীর্ঘদিন বেশি বেশি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও শ্যালো মেশিনের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ বালি উত্তোলন হচ্ছে ব্যাপকহারে। এতে ভূমিকম্পে সংশ্লিষ্ট এলাকা দেবে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। আগে গ্রামাঞ্চলে প্রচুর গাছপালা, ঝোপজঙ্গল, ছোট ছোট বনের মতো ছিল। কিন্তু সেগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে আজ। ভিনদেশীয় বৃক্ষ জায়গা দখল করে নিচ্ছে ক্রমে। কৃষিকাজে পানির চাহিদা মেটাতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যাপকহারে তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে দ্রুত। এই তো গ্রামীণ পরিবেশের বর্তমান অবস্থা। গ্রামের নির্মল পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষভাবে ইটভাটা স্থাপনে যথাযথ নিয়মবিধি মেনে চলাই কাম্য। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে দূষণ প্রক্রিয়া কমিয়ে আনতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সচেতনতা বাড়ানো, বিকল্প পদ্ধতির উদ্ভাবন ও প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ আরো ব্যাপকতর হোক— এটাই প্রত্যাশা। গাইবান্ধা