ঈদকে সামনে রেখে কাঠ পাচারকারী ও চোরা হরিণ শিকারীরা সুন্দরবন থেকে কাঠ পাচার ও চিত্রল হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে। অবাধে কাঠ পাচার ও হরিণ শিকারের কারণে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন যেমন উজাড় হচ্ছে, তেমনি সুন্দরবন থেকে মায়াবী চিত্রল হরিণও হারিয়ে যেতে বসেছে। সুন্দরবন থেকে কাঠ পাচার ও হরিণ শিকারের সঙ্গে বনবিভাগের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জের আওতাধীন কালাবগী, সুতারখালী, নলিয়ান স্টেশন এবং সরবতখালী, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব, গাঁগড়ামারী ও বুড়িরডাবর টহলফাঁড়ির সামনে দিয়ে জ্বালানির নামে প্রতিদিন দেদারছে সুন্দরবনের মূল্যবান সুন্দরী ও কাঁকড়া কাঠ পাচার হচ্ছে। বনবিভাগের স্টেশন ও টহলফাঁড়িতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় দাকোপ উপজেলার কালাবগী, নলিয়ান, সুতারখালী, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব, বানিশান্তা ও বাজুয়া এলাকার চিহ্নিত কাঠচোরেরা প্রকাশ্যে সুন্দবন থেকে কাঠ কেটে এনে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্টেশন ও টহলফাঁড়িগুলোর সামনে দিয়ে কাঠ চুরি করা সম্ভব হওয়ায় এ অঞ্চলে বেশ কিছুকাল আগে থেকেই সংঘবদ্ধ একটি কাঠ পাচারকারী দল গড়ে উঠেছে। এই কাঠ পাচারকারী দল বনবিভাগের এক শ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা- কর্মচারীর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রায় সারা বছর ধরে সুন্দবনের বড় বড় সুন্দরী ও কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ জ্বালানির নামে কেটে এনে দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ স’মিলগুলোতে বিক্রি করছে। আবার লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে সুন্দরবন থেকে কাঠ কেটে ট্রলার ভর্তি করে খুলনা ও বাগেরহাটের মোকামগুলোতেও চালান করা হচ্ছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে এই কাঠ চোর চক্র আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে চোরা হরিণ শিকারীরা সুন্দরবনে হরিণ নিধনে মেতে উঠেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলোর চিহ্নিত চোরা শিকারীরা প্রায় সারা বছর ধরেই ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। তবে ঈদের সময় হরিণ শিকারীরা যে কোনো সময়ের তুলনায় বেপরোয়া হয়ে উঠে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে, আবার কখনো কখনো চোরা শিকারীরা কাঁকড়া, বাওয়ালী ও মৌয়ালের পাস নিয়ে বনে ঢুকে বন বিভাগের সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করছে। এই হরিণের মাংস গোপনে লোকালয়ে নিয়ে এসে খুলনাসহ বিভিন্নস্থানে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সূত্রমতে, দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সুতারখালী, কালাবগী, নলিয়ান, কালিনগর, কামারখোলা, কৈলাশগঞ্জ, রামনগর, বানিশান্তা ও লাউডোব এলাকার চিহ্নিত বেশ কয়েকজন হরিণ শিকারীর নেতৃত্বে সুন্দরবনে দেদারছে হরিণ শিকার চলছে।
এ ব্যাপারে সুন্দরবন (পশ্চিম) বন বিভাগের নলিয়ান রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কাঠ পাচারকারী ও চোরা হরিণ শিকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে আমরা যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছি। বনকর্মীদের সার্বক্ষণিক টহলও জোরদার করা হয়েছে। অসাধু কোন কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত আছে কিনা সেটি আমার জানা নেই। তবে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
