পাবনার চাটমোহর উপজেলায় একটি স্লুইস গেট সময়মত খুলে না দেয়ায় পানির অভাবে দক্ষিণ চলনবিলের গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির আমন চারা মরে যাচ্ছে। স্লুইজ গেটটি এখন খোলা হলেও অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। এতে ফসলের তেমন কোন উপকার হবে না। তাছাড়া স্লুইজ গেটটির সবগুলো কপাটও খুলে দেয়া হয়নি। ২০টির মধ্যে খোলা হয়েছে মাত্র ৫টি। ফলে পানিও আসছে খুবই কম।
কৃষি বিভাগ বলছে, বৃষ্টিহীনতা ও পানির সংকটের কারণে বোনা আমনের চারা বেড়ে উঠতে পারছে না। রোদে পুড়ে ধানের চারা লালচে বর্ণের হয়ে যাচ্ছে। এসব ধান গাছে ফুল আসার আগে পানি না আসলে জমি থেকে কোন ধান পাওয়া যাবে না। জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০০৯ সালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নে একটি স্লুইসগেট নির্মিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল উজানের পানি চাহিদামত দক্ষিণ চলনবিলে ঢুকিয়ে আবাদ করা এবং বেশি পানি হলে গেটটি বন্ধ করে অকাল বন্যা রোধ করা। কিন্তু বর্ষার শুরু থেকেই গেটটি বন্ধ রাখায় কৃষি কাজে প্রয়োজনীয় পানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর দক্ষিণ চলনবিলে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমনের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে গুরুদাসপুর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর, বড়াইগ্রামে ৫ হাজার হেক্টর এবং চাটমোহর উপজেলায় ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমনের আবাদ হয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, বর্ষার শুরুতে স্লুইসগেট খুলে দেয়া হয়নি। ফলে দক্ষিণ চলনবিলের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় পানি ঢুকতে পারছে না। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোনা আমন ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসে ধর্না দিচ্ছে ফসল বাঁচানোর জন্য। বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে জনানো হয়েছে। বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোমিন আলী বলেন, এই স্লুইসগেটের সমস্যার কারণে তার এলাকার কৃষকেরা খুবই বিপদে পড়েছেন। গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার এমদাদুল হক বলেন, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
স্লুইসগেট পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ জয়নাল আবেদীন, প্রবীণ শিক্ষক মো. আজাহার আলী, হাজী হরফ আলীসহ স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন একটি প্রভাবশালী মহল স্লুুইসগেটটি আটকে রেখে মাছ ধরার বাণিজ্যে জড়িত থাকে। পাবনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশী এস এম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্লুুইসগেটটি মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত হয়েছে। এটার উদ্দেশ্য অকাল বন্যা রোধ ও শুকনো মৌসুমে গুমানী নদী থেকে পানি পর্যায়ক্রমে চলনবিলে ঢুকিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করা। সেই প্রযুক্তিতিইে স্লুইসগেট নির্মিত হয়েছে। এখন ইচ্ছা করলেই গেট খোলা বা আটকানো যায় না।
