শহর ভোলার নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী যখন ঈদের কেনা-কাটার জন্য শপিং মলগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঠিক তখন ভোলা সদর উপজেলার নদী পাড়ে গেলে দেখা যাবে, সাম্প্রতিক প্লাবনে বসতবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়লে দরিদ্র এ মানুষগুলো আশ্রয় নেয় নিকটস্থ উঁচু স্থানে কিংবা বেড়ি বাঁধে। তাদের না আছে খাবার, না আছে পানি, না আছে পরনের কাপড়। ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করে কোন রকমে দিন গুজরান মাত্র। গত বুধবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় যে, জোয়ারের চাপ কিছুটা কমলেও বহু জায়গায় এখনো জলাবদ্ধতার কারণে পানি সরতে পারছে না ফলে পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর, বাপ্তা, ধনিয়া কাচিয়ার শত শত পরিবার নিজ নিজ ঘরের মধ্যে সুপারি গাছ দিয়ে মাচা তৈরি করে গাদাগাদি করে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ মাদার গ্রামের মুরাদ সফিউল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখনো জলমগ্ন।
প্রধান শিক্ষক জামালউদ্দিন বাহার জানায়, কষ্ট করে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আঃ বারেকের বসতঘর এভাবেই ৮/১০ দিন পর্যন্ত পানি বেষ্টিত। চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্যা জানায়- পাঁচটি গ্রামের একই অবস্থা। গত ৩০ জুলাই তিনি জি আর গম থেকে প্রাপ্ত মাত্র তিন টন গম দশ কেজি করে তিনশ’ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করেছেন। এখানে দুস্থ পরিবারের সংখ্যা তিন হাজার। ধনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ হোসেন কবির জানায়- তার ইউনিয়নের দেড়শ’ পরিবারের অবস্থা একেবারেই সঙ্গীন।
কাচিয়া ইউনিয়নের কাঠির মাথার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিকটস্থ বেড়ি বাঁধের ভাঙ্গনের মুখে পড়ে সম্পূর্ণই জলবেষ্টিত।
