শেরপুরের নালিতাবাড়িতে আপন ভাতিজাকে খুনের মামলার আসামি চাচা আজাহার উদ্দিনের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায়। রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে এমন অভিযোগ এনে নালিতাবাড়ী শহরে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। ৯ দিন আগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল।
এদিকে এ ঘটনার পর শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম হায়দারসহ চারজনকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। ক্লোজড হওয়া অন্য তিনজন হলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এস আই জাফর আলী, এএসআই লুত্ফর রহমান ও কনস্টেবল আব্দুস ছাত্তার।
সূত্র জানায়, উপজেলার সন্নাসীভিটা গ্রামের আঃ রহিম হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আজাহার উদ্দিনকে বুধবার রিমান্ডে নেন নালিতাবাড়ী থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাফর আলী। গতকাল সকালে আজাহার আলী বুকে ব্যথার কথা জানালে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিত্সক ডাঃ তাজুল ইসলাম আজাহারকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে লাশ নিয়ে হাসপাতল চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে শহর প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে মুহূূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মিছিলটি কৃষিমন্ত্রীর ভিজিএফ ও শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণী অনুষ্ঠানের ঢুকে পড়ে লাশ মঞ্চে তুলে বিক্ষোভ শুরু করে। মঞ্চ দখলে নিয়ে তারা পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। পরে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী মঞ্চে এসে সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেবুল ইসলাম জানান, সকাল নয়টার দিকে নলিতাবাড়ী থানার ওসি তাকে বলেন যে রিমান্ডে থাকা আসামি সকালে হঠাত্ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তিনি তাকে নালিতাবাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির কিছুক্ষণ পর আসামির মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভাস্কর দেবনাথকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে সুরুজ আলী অভিযোগ করেন, রিমান্ডে আনার পর তার কাছে নির্যাতন না করার শর্তে টাকা দাবী করে পুলিশ। দাবী অনুযায়ী তিনি ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু রাতের খাবার দিতে থানায় গেলে তিনি দেখতে পান তার বাবাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হচ্ছে। এসময় তাকে থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে খবর পান বাবা মারা গেছে। থানার ওসি গোলাম হায়দার অভিযোগ অস্বীকার বলে বলেন, বুধবার রিমান্ডে আনার পর আসামি সুস্থ ছিল। ভোরে বুকে ব্যথা করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালে যাই। রোগীর প্রেসার, শ্বাস-প্রশ্বাস সবই বন্ধ ছিল। তাই চিকিত্সা দেওয়ার সুযোগ হয়নি।
বোনের লাঠির আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু
নালিতাবাড়ীতে তুচ্ছ ঘটনায় ছোটবোনের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গেরামারা গ্রামের উজান গাংপার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আশরাফ আলী (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশরাফ আলী এবং তার ছোট বোন রাশিদা বেগমের (৪০) বাড়ী পাশাপাশি। গতকাল দুপুরে আশরাফ আলীর ছেলের ঘরের এক নাতির সাথে রাশিদা বেগমের এক ছেলের ঝগড়া হয়। এ ঝগড়ার জের ধরে জুমার নামাজের পর দুই ভাই-বোনের মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘর থেকে লাঠি বের করে এনে রাশিদা আকস্মিকভাবে আশরাফ আলীর মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই রাশিদাকে এলাবাসী আটক করে পুলিশে দিলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা আত্মগোপন করেন। নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসাইন বলেন, এ খুনের ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
লাশ চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত
উপজেলাধীন গেরামারা কবরস্থানে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাশ চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ে সেন্টু (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানান, গত প্রায় ৩ মাসে এ কবরস্থান থেকে কয়েক দফায় ১১টি লাশ এবং কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোর চক্রের সদস্যরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত কয়েকদিন যাবত্ কবরস্থানে রাতের বেলা পাহারা বসিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চোরের দল লাশ চুরি করতে গেলে এলাকাবাসী ধাওয়া করে। এসময় বাকিরা পালিয়ে গেলেও একজনকে ধরে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। নিহত সেন্টু পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলার কুর্শাবাদগৈর এলাকার বাসিন্দা।
