চট্টগ্রামে বাস কাউন্টার ফাঁকা মানুষ চাইছে ট্রেনের টিকেট

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৯
পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দোহার যাবেন নগরীর গোল পাহাড় এলাকার ব্যবসায়ী মতিউর রহমান। ঈদের আগের দিন সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ঢাকা যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু চট্টগ্রাম স্টেশনে গিয়ে দেখেন ঈদের আগে এ ট্রেনের কোনো টিকেটই নেই। এমনকি কালোবাজারেও ঢাকা যাওয়ার কোনো ট্রেনের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে তিনি বাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মতিউর রহমান বললেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। ঈদের আগে পরিস্থিতি হয় ভয়াবহ। দুর্ভোগ এড়াতে ট্রেনে যাব ভেবেছিলাম। কিন্তু টানা তিনদিন স্টেশনে গিয়েও টিকেট পাইনি। ঈদের সময় যারা চট্টগ্রাম ছাড়েন, মতিউর রহমানের মত তাদের অনেকেরই এবার প্রথম পছন্দ ছিল ট্রেন। ট্রেনে চেপেই তারা দেশের বিভিন্ন অংশে আত্মীয়-স্বজনের কাছে যাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু তাদের বেশিরভাগের আশাই এবার পূরণ হচ্ছে না। পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ বন্দরনগরী ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। অথচ ঈদের আগের পাঁচদিনে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার যাত্রী বহন করার ক্ষমতা রয়েছে রেলের। বাকিদের ভরসা বাস। এছাড়া খুব সামান্য সংখ্যক যাত্রী বিমান এবং সদরঘাট থেকে নৌপথে চট্টগ্রাম ছাড়েন। বেসরকারি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, নভো এয়ার ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগের দু’দিনের সব টিকেটই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে চট্টগ্রামের বাস কাউন্টারগুলোতে এবার যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। মহাসড়কের বেহাল অবস্থা এবং তীব্র যানজটের আশঙ্কায় অনেকেই এবার বাসে চড়তে চাইছেন না। এদিকে সরকার ঈদের আগে ও পরে পাঁচদিন মহাসড়কে ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ ভারি যানবাহন না চালার ঘোষণা দিলেও সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েই গেছে। গতকাল শুক্রবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরেরসরাইতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের কারণে ফেনীর মহিপাল থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় দারোগাহাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কে আটকা পড়ে প্রচুর যানবাহন। সামান্য এ দূরত্ব পাড়ি দিতে বাস যাত্রীদের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এসময় নারী, শিশুসহ যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।