সিলেটে বেপরোয়া ছিনতাইকারী চক্র

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪০
সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ছিনতাই, ধর্ষণ, অপহরণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এমনকি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এখন ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে মানুষ অতিষ্ঠ। ইদানীং ছিনতাইকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট নগরীকে ঈদের মৌসুমে ছিনতাইকারীরা বিশেষ ‘টার্গেটে’ রেখেছে। পুলিশের অপরাধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, সিলেট নগরীতে ছিনতাইকারীদের গড়ে উঠা ‘নেটওয়ার্ক’ ভেঙ্গে দিতে ইতোমধ্যে একজন আন্তর্জাতিক ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হালিমকে খুঁজে পেয়েছে সিলেট মহানগর ডিবি পুলিশ। এদিকে গত কয়েকদিন আগে নগরীর কাজী ইলিয়াস এলাকায় অবস্থিত এসএ পরিবহনের কাউন্টার থেকে আন্তর্জাতিক অপহরণ চক্রের সদস্য সুহেল আলী (২৮) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশ জানায়, হালিম দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। সে নিজে দেশে ও দেশের বাইরে ছিনতাই করে থাকে। ভারত, আবুধাবী, দুবাই গিয়েও অনেকবার ছিনতাই করেছে বলে পুলিশকে জানায়। বিমানে করে দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে, বিমানে ফ্লাই করার সময়ও সে মানুষের পকেট কেটেছে। এমনকি দুবাই এয়ারপোর্টে এক শেখের পকেট কেটে সব হাতিয়ে নিয়েছে বলে ডিবি পুলিশকে জানিয়েছে। মালেক ধরা পড়েছে বাকিরাও ধরা পড়েবে বলে জানায় পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অপহরণকারী চক্রের সদস্য সুহেল আলী (২৮) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পাতানো ফাঁদে আটক হয় গত ২৪ জুলাই নগরীর কাজী ইলিয়াস এলাকায় অবস্থিত এসএ পরিবহনের কাউন্টার থেকে। সে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জিয়াপুরের বাসিন্দা। টাঙ্গাইলের জাকির হোসেন নামের এক যুবককে স্পেন পাঠানোর কথা বলে তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা আদায় করে সুহেলসহ ঐ চক্রের বেশ ক’জন। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের ইরানে নিয়ে জাকির হোসেনসহ বেশ ক’জন বাংলাদেশিকে একটি ঘরে আটক রেখে নির্যাতন চালায়। বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধির কাছে আরো ১০ লাখ টাকা না দিলে আটককৃত জাকিরকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় জাকিরের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় ২৩ জুন মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৯। ডিবি পুলিশ জানায় আন্তর্জাতিক ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হালিমের রয়েছে সিলেট জুড়ে বিশাল নেটওয়ার্ক। সিলেট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ছিনতাইকারীদের মালেক শেল্টার দিয়ে থাকে। তার প্লান অনুযায়ী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাই হয়। ব্যাংক, অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে এদের নিজস্ব ওয়াচার। তাদের ইনফরমেশনের ভিত্তিতে বড় বড় ছিনতাই হয়ে থাকে। সুহেল আলী সম্পর্কে গোয়েন্দারা আরো খোঁজ-খবর নিচ্ছে। ডিবির এডিসি নূরে আলম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন ‘‘সিলেটে ‘লায়ন টিম’ ১ রমজান থেকে মাঠে কাজ করে বেআইনী অস্ত্র, গুলি, ছিনতাই কাজে ব্যবহূত মোটর সাইকেল, অটো রিকশা উদ্ধার ও চিহ্নিত ৩০ ছিনতাইকারীকে আটক করেছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।” অপরদিকে গত সোমবার এক প্রবাসীর স্ত্রী সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন ঈদের শপিং-এ। পথে অটোরিকশা আটকিয়ে কয়েকজন ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ কেড়ে নিতে যায়। হাবিব নামের একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট তখন দ্রুত ছিনতাইকরীদের ঝাপটে ধরে ভ্যানিটি ব্যাগ ও ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করলেও ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রমজান ও ঈদকে নির্বিঘ্ন করতে সিলেট বিভাগে ১০ হাজার পুলিশ মাঠে আছে। এর মধ্যে ২ হাজার নগরীতে।