তেলেঙ্গানা ইস্যু

অন্ধ্রপ্রদেশে সাত কংগ্রেস এমপির পদত্যাগ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
তেলেঙ্গানাকে স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা দেয়ার বিরোধিতা করে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে। গতকাল শুক্রবার কংগ্রেস দলের ৬ জন লোকসভা সদস্য ও একজন রাজ্যসভার সদস্য পদত্যাগ করেছেন। চারজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগকে গতকাল পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে কংগ্রেস। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হয়েছে। গতকালও বিভিন্ন স্থানে বন্ধ পালিত হয়েছে। এ অবস্থায় সেখানে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। খবর এনডিটিভি ও জিনিউজের। গতকাল বিকালে সংসদ সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীসহ চারজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ তাদের পদত্যাগ করতে বাধা দেন এবং আজ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তেলেঙ্গানা গঠনের প্রতিবাদে অন্ধ্রপ্রদেশের অন্য এলাকা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসের এক মন্ত্রী, নয় বিধায়ক এবং সাত বিধানসভার সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তবে পদ ছাড়লেও তাঁরা আপাতত কংগ্রেসেই থাকছেন। দুই দিন আগেই দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন অন্ধ্রের কংগ্রেস সাংসদ রাযাপতি সম্বাশিব রাও। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এখনও আমি যদি কংগ্রেসে থাকি, তবে জনতা আমাকে ধোলাই দেবে। তবে এত চাপ সত্বেও তেলেঙ্গানা গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার যে কোনও প্রশ্নই নেই, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক দিগ্বিজিয় সিংহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দে বলেন, কংগ্রেস একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তেলেঙ্গানা গঠনের পর পদত্যাগ করলে রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে তা মূল্যহীন হবে বুঝেই তড়িঘড়ি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। একই ইস্যুতে অন্ধ্র প্রদেশে ইতিমধ্যে বহু বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন। শিগগির আরও অনেক বিধায়ক পদত্যাগ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে ফের আজ শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ ডেকেছে। গত সোমবার থেকে মোর্চা গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার বনধ পালন করেছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সেখানকার আবাসিক স্কুলগুলি থেকে পড়ুয়াদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। স্থানীয়রা বাড়ি ফিরে যেতে পারলেও রয়ে গেছে বাংলাদেশের কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী। তাদের নিয়ে চিন্তিত স্কুলগুলির কর্তৃপক্ষ। দার্জিলিংয়ে হরতাল শুরুর আগেই গোর্খা যুব মোর্চার সক্রিয় কর্মী সরোজ তামাং খুন হয়েছেন। জানা গেছে, স্কুলগুলির বাইরে পুলিশ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দার্জিলিংয়ে বাবা-মারা সরাসরি গিয়ে ভর্তি করান। তাই বাংলাদেশের ঠিক কতজন ছাত্রছাত্রী দার্জিলিংয়ে রয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে বাবা-মারা যোগাযোগ করলে তারা প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন।