ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হচ্ছে ভারতের বিশেষ আদালতে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার ১৩ আগস্ট শুরু হচ্ছে। ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের গঠন করা একটি বিশেষ আদালতে এ বিচার শুরু হবে। মামলায় সাক্ষ্য দিতে ফেলানীর বাবা, মামাসহ একটি প্রতিনিধি দল ভারতে যাবেন। শুক্রবার বিজিবি’র জনসংযোগ দফতরের কর্মকর্তা মোহসিন রেজা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। কাঁটাতারের ওপর ঝুলে থাকা ফেলানীর লাশ নিয়ে সারা পৃথিবীতে তোলপাড় হয়। বিশ্ব গণমাধ্যমে ঘটনাটি ফলাও করে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। চারদিকে নিন্দার ঝড় উঠে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ বর্বরোচিত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করা হয়। ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও বিএসএফের নিকট কড়া প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করা হয়। এছাড়া বিজিবি সদর দফতর থেকে বিএসএফ সদর দফতরে কড়া প্রতিবাদলিপি প্রেরণের পাশাপাশি মৌখিকভাবেও প্রতিবাদ জানানো হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিএসএফের সাথে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ রাখা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ সদর দফতর উক্ত ঘটনার তদন্তপূর্বক অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের জন্য ‘জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট’ গঠন করে। বিজিবি সদর দফতর জানায়, গত মার্চে নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বিএসএফ মহাপরিচালকের কাছে ফেলানী হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যাপারে বিজিবি মহাপরিচালককে আশ্বাস প্রদান করেন। বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনার সাক্ষ্য দেয়ার জন্য বাংলাদেশের দু’জন প্রত্যক্ষ সাক্ষী, একজন আইনজীবী ও বিজিবির একজন প্রতিনিধিকে ভারতে যেতে বিএসএফের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী ৪৫, বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ, কুড়িগ্রাম আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আব্রাহাম লিংকন, ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, মামা আবদুল হানিফ বিএসএফের আদালতে সাক্ষী দিতে যাবেন। ভারতের কোচবিহারের ১৮১, বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ আদালতে ১৯ আগস্ট তাদের সাক্ষ্য নেয়া হবে।