পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা সোনারচর

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২১:৪৫

বাংলাদেশের অপার এক সৌন্দর্যের নাম সোনারচর। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা এক অপরূপ প্রাকৃতিক লীলাভূমি। চরটি সোনা দিয়ে তৈরি না হলেও সূর্যের প্রখর রোদ যখন বালুর ওপর পড়ে তখন সোনার মতোই মনে হয়। পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা সীমান্ত ঘেঁষে এর অবস্থান।

২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠে সোনারচর। পরে পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ বনায়ন করেন। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার ২৬ হেক্টর আয়তনের এ বনভূমিকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে  ঘোষণা করে সরকার। গাছগাছালিতে ভরা সোনারচরে আছে হরিণ, বানর, শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এছাড়া রয়েছে নানা প্রজাতির পাখিও। তাদের কলকাকলি মুগ্ধ করে এখানে আগত পর্যটকদের। এখানে রয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। এখানে রয়েছে লাল কাঁকড়া। কাঁকড়ার এ প্রজাতি সামুদ্রিক হলেও চরের বালুমাটিতে বসবাস করে। বালুর গভীরে নিজেদের তৈরি সুড়ঙ্গে দলবেঁধে চলাচল করে। জোয়ারের পানিতে সৈকত যখন ডুবে যায়, তখন এরা সুড়ঙ্গে নিরাপদে আশ্রয় নেয়।

এখানে যাতায়াতের তেমন সুবিধা না থাকায় ভ্রমণপিপাসুরা সোনারচরে যেতে আগ্রহী হন না। গলাচিপা থেকে ট্রলার ও স্পিডবোট যোগে যেতে হয় সেখানে। সময় লাগে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা। তবে সরকারের সহযোগিতায়  সোনারচর গড়ে উঠতে পারে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে।

নিয়ামুর রশিদ শিহাব, গলাচিপা, পটুয়াখালী