ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র বেলা সোয়া ১১টা। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে তখনও পৌনে তিন ঘণ্টা বাকি। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে ৬-৭ জনের এক দল শিক্ষার্থী আনন্দ-চিত্কার দিয়ে উঠল। মাটি থেকে পা উঠল শূন্যে। দুই ঠোটে চওড়া হাসি। উত্ফুল্ল কণ্ঠে ঘোষণা করল ‘ফাইভ, ফাইভ, আমরা জিপিএ ৫ পেয়েছি’। গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তবে অনলাইন সুবিধা থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বেশ আগেই ফলাফল জেনে যায়। দুপুর সোয়া ১২টা বাজতেই শিক্ষার্থীদের খণ্ড খণ্ড উল্লাস-ধ্বনি গগণবিদারী হর্ষধ্বনিতে পরিণত হয়। কেননা ততক্ষণে তারা জেনে গেছেন এ কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকলেই পাস করেছেন। পাসের সংখ্যা এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তি গত বছরের চেয়ে বেড়েছে। আর দেশ সেরার মুকুট তৃতীয়বারের মত অর্জন করে সাফল্য উদযাপন করলেন কলেজটির শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তারা।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঘোষিত ফলাফল থেকে জানা যায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এক হাজার ২১৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে এক হাজার ২১৭ জন অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে সবাই। এক জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেননি। এর মধ্যে এক হাজার ১২৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। বোর্ড পয়েন্ট ৯৭ দশমিক ২৯। গত বছর রাজউক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক হাজার ১৭৬ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছিল এক হাজার ১০৬ জন।
এ বছর কলেজটির বাংলা মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগের ৬৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৬২৩ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৩৫৫ জনের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩২ জন। মানবিক বিভাগের ১১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৫৯ জন।
ইংরেজি মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগের ৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৮৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষার ৩৩ জনের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৭ জন।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ করিম বলেন, ‘এসএসসির গোল্ডেন জিপিএ ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান এবং বাবা-মায়ের যত্নের কারণে আশা পূরণে এগিয়েছিলাম। ফল জানার পর কত ভালো লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না। ওওওহ।’
কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা বলেন, তৃতীয়বারের মতো দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান অধিকার করায় আমাদের একাগ্রতা প্রমাণিত হয়েছে। শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সমন্বিত চেষ্টা-সচেতনতা এবং মেধা চর্চায় যত্নশীল হওয়ার কারণে এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ ধারা আগামীতেও বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিয়মানুবর্তিতা পালনে আমরা সর্বোচ্চ জোর দেই। একইসাথে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও আমারা কাজ করি। দুই দিক বিবেচনায়ই আমরা সন্তোষজনক অবস্থায় আছি।
