আজ ২৫ রমজান। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) রমজানের শেষভাগে প্রত্যেক রোজাদারের জন্য ফেতরা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে একদিকে ঐ ব্যক্তির এক মাসের সিয়াম সাধনার মধ্যে সংঘটিত ভুলভ্রান্তির অবসান হবে, অন্যদিকে মিসকিনের কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা হবে। ইসলামী তত্ত্ববিদদের (ফকীহদের) পরিভাষায় রোজাদারগণ রোজাকে কলুষমুক্ত করার জন্য রোজার শেষাংশে ও ঈদের আগে যে দান করে থাকেন ঐ দানের নাম ফেতরা। ফেতরা বলতে আমরা যা বুঝি কুরআন ও হাদীসে ঐ অর্থে ফেতরা শব্দটি কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন হাদীসে ফেতরাকে সদাকাতুল ফেতর, যাকাতুল ফেতর, যাকাতে রমজান, যাকাতে আবদান (দেহের যাকাত) যাকাতুস সওম ও সদাকাতুর রুউস নামে অভিহিত করা হয়েছে (আওনুল বারী ৪র্থ খণ্ড-৯৭ পৃঃ)।
একটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সূরায়ে ‘আলা’র আয়াত (ক্বদ আফলাহা মান তাযাককা) ফেতরার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল (সহীহ ইবনে খুযায়মাহ ৪র্থ খণ্ড ৯০ পৃঃ)। এ হাদীস ও অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ফেতরা ফরজ। ইমাম নবিবী (রহ.), ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদ (রহ.) এবং সালাফ প্রমুখ (জমহুর) অধিকাংশ ওলামার মতে ফেতরা ফরজ। ইমাম আবু হানীফার (রহ.) মতে ফেতরা ফরজ নয়, ওয়াজিব (শারহে মুসলিম পৃঃ ঐ মিরআত ৩য় খণ্ড, ৯১ পৃঃ)।
ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) মুসলিম ক্রীতদাস ও স্বাধীন পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সবার ওপরে রমজানের যাকাতুল ফেতর এক সা’ খেজুর অথবা যব নির্ধারণ করেছেন (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ১৬০ পৃঃ)।
আব্দুল্লাহ ইবনে সা’লাবাহ (রা.) থেকে মরফূ’ভাবে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, তোমরা এক সা’গম আদায় করো প্রত্যেক ব্যক্তির তরফ থেকে সে পুরুষ হোক বা নারী, কিংবা ছোট হোক বা বড় অথবা স্বাধীন হোক বা ক্রীতদাস। ধনী হলে আল্লাহ তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং ফকীর হলে আল্লাহ তাদেরকে তার চেয়ে বেশি ফেতরা দেবেন যতটা তারা দেবে (বায়হাকী ৪র্থ খণ্ড ১৬৪-১৬৫ পৃঃ)।
উক্ত দু’টি রেওয়ায়াত প্রমাণ করে যে, ফেতরা প্রত্যেকের ওপরে ওয়াজিব। ক্রীতদাসের ফেতরা তাকেই দিতে হবে। কারণ রসূলুল্লাহ (স.) বলেনঃ ক্রীতদাসের ওপর সাদাকাতুল ফেতর ছাড়া আর কোন সাদকা ওয়াজিব নয় (মুসলিম ১ম খণ্ড ৩১৬ পৃঃ)।
সিহাহ সিত্তা এবং বায়হাকী ও তাহাভীর হাদীসে আছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ফেতরা ওয়াজিব। ঐসব হাদীসে বা দুনিয়ার কোন হাদীসে একথার উল্লেখ স্পষ্টভাবে নেই যে, অমুক লোকের ফেতরা মাফ। তাছাড়া ফেতরার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ওটা হলো সিয়াম পালনকারীদের সিয়াম পবিত্র করার মাধ্যম। সুতরাং যে কেউ রমজানের রোজা রাখবে, ফেতরা না দিয়ে তার রোজা দোষমুক্ত হবে না, এদিক দিয়েও বোঝা যায় যে, কারো ফেতরা মাফ নেই।
সুতরাং আমরা সকলে ঈদ গাহে যাওয়ার আগেই সাদাকাতুল ফিতর প্রদানের মাধ্যমে আমাদের রোজাকে ত্রুটিমুক্ত করে আল্লাহর রিজামন্দি হাছিলের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুন, আমীন।
e-mail : [email protected]
