সন্ধ্যায় একত্রে ইফতার করে ভোরে বন্ধুকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২৩:৩৬
শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই বন্ধু এক সাথে বসে ইফতার করেছেন। বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু রাত না পোহাতেই ভোরে একজন গুলি করে হত্যা করলেন অন্যজনকে। এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদী শহরের তছেরপাড়ায়। শনিবার ভোর পাঁচটার দিকে বাড়িতে ঢুকে ঘুম থেকে তুলে খুব কাছ থেকে গুলি করে স্থানীয় যুবদল কর্মী সুজনকে (২৬) হত্যা করেছেন তারই দীর্ঘদিনের বন্ধু শাহ আলম। এমন দাবি করেছে পুলিশ ও সুজনের পরিবার। নিহত সুজন ঈশ্বরদী শহরের মৃত ইসলাম প্রামাণিকের ছেলে। লেনদেন নিয়ে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা হলেও গতকাল রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সুজনের স্ত্রী শুকরিয়া বেগম জানান, আগের দিন তারা দু’জনে একত্রে ইফতার করেন। রাতে আলম চলে যান। ভোর ৫টার দিকে তিনি বাড়িতে এসে সুজনকে ডাকাডাকি শুরু করেন। এ সময় তার সাথে আরও ৪/৫ জন ছিলো। ডাকাডাকিতে সুজন ঘুম থেকে উঠে উঠানে আসামাত্র শাহ আলম পিস্তল দিয়ে তার স্বামীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। পিস্তলের ৬টি গুলিই সুজনের শরীরে বিদ্ধ হয় বলে তার স্ত্রী জানান। শুকরিয়া বেগম আরও বলেন, ‘শাহ আলম আমাকেও গুলি করার জন্য তেড়ে এসেছিলো, কিন্তু পিস্তলে গুলি না থাকায় আমি প্রাণে বেঁচে যাই।’ ঘটনার পর পর সুজনকে ঈশ্বরদী হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সুজন হত্যার ঘটনায় তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা শহরের গোরস্থান পাড়ায় আবুল হোসেন, নূর হোসেন নূরু ও রুহুল আমিনের বাসায় হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘাতকরা যুবদলের কর্মী বলে জানা গেছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আজমেরী বেগম জানান, শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শরীরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি গুলির চিহ্ন ছিল। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিমান কুমার দাশ জানান, সুজনের সাথে হত্যাকারী শাহ আলমের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো। শনিবার ভোরে সুজনের বাড়িতেই তাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে শাহ আলম। ময়না তদন্তের জন্য লাশ পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।