বাংলাদেশি রাজনীতিকের তথ্য পেতে এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ!

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৩, ২৩:৩৭
বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের গোপন নথিপত্র যোগাড়ের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুারো অফ ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই-এর দপ্তর থেকে ওই গোপন নথি সংগ্রহের জন্য রিজভী আহমেদ (৩৪) নামের এক বাংলাদেশি সংস্থার এক সাবেক এজেন্ট ও তার বন্ধুকে এই ঘুষ দেন। সম্প্রতি ওই তিন জনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । অভিযুক্ত অন্য দুইজন হলেন, এফবিআই-এর সাবেক বিশেষ এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক, তার বন্ধু জোহান্স থেলার। যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিভাগ জানিয়েছে, রিজভী আহমেদ একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ সম্পর্কে গোপন তথ্য যোগাড় করে তাকে বা তার অন্য সহযোগীদেরকে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশি ওই রাজনীতিবিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। কেবল বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী নাগরিক এবং বিরোধীদলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। রিজভীসহ ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মোট চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত: তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে চেয়েছেন, দ্বিতীয়ত: লাষ্টিক এবং থেলার ঘুষ দেয়ার কাজে মধ্যস্থতা করছিলেন, তৃতীয়ত:- রিজভী আহমেদ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে রাজি ছিলেন এবং চতুর্থত: এফবিআই এর সাবেক এজেন্ট লাষ্টিক ঘুষ নেয়ার বিনিময়ে তথ্য ফাঁস করতে রাজি হয়েছিলেন। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাষ্টিকের ২৫ বছর, থেলার ও রিজভীর ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কালে ওই তিন ব্যক্তি নানা শলাপরামর্শ করেছেন। তাদের মূল বিষয়বস্তু ছিলো বাংলাদেশের একজন নামকরা রাজনীতিবিদের বিষয়ে এফবিআই থেকে তথ্য বের করা। রিজভী আহমেদ এর চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিতে লাষ্টিক এবং থেলার প্রতিমাসে নির্দিষ্ট অংকের ডলার দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে রিজভী কিছু অর্থ তাদের দিয়েছেনও। এফবিআই ওই তিন ব্যক্তির মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এসএমএস উদ্ধার করেছে।