হরতালের সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতির শ্বাস রোধ করছে। সাভারে রানা প্লাজার বিপর্যয়ের পর বার বার হরতাল অর্থনীতির জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে এ ধরনের একটি হরতালে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে, বাসে আগুন দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন লোক নিহত হয়। ধর্মঘট-হরতালের কারণে দোকানদাররা বাড়িতে বসে থাকায় তারা মুনাফার মুখ দেখতে পারছে না। এমনকি আম বিক্রেতারাও সমস্যায় ভুগছে, সহিংসতার আশঙ্কায় বাইরে থেকে ঢাকায় আসতে পারছে না আমের চালান।
হরতালের সংস্কৃতি বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মঘট ও হরতাল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ভারতের স্বাধীনতার নেতা মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ উপনিবেশের শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে ধর্মঘটের সংস্কৃতি চালু করেছিলেন। আর এখন সরকারের বিরুদ্ধে যেকোন প্রতিবাদ জানাতে রাজনৈতিক দলগুলো হরতালের ডাক দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রানা প্লাজার বিপর্যয়ের পর পোশাক কোম্পানিগুলোর ভাবমূর্তি ফেরাতে যখন বাংলাদেশ চেষ্টা চালাচ্ছে তখন হরতাল তাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করায় পুরনো ক্ষত সামনে চলে এসেছে। গত কয়েক মাসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে জামায়াতের কয়েকজন নেতার দণ্ড ঘোষণার পর দলটি বেশ কয়েকটি হরতাল ডেকেছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আগামী জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন এ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। আর হরতালেরও বিস্তার ঘটছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরে দেশ জুড়ে ৩৬টি হরতাল হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিলো ২৯টি। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হরতালজনিত রক্তাক্ত সহিংস ঘটনায় ৮০ জনের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে। শ’ শ’ বাস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) হিসাব অনুযায়ী হরতালের কারণে চলতি বছরে বাংলাদেশের ৭শ’ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ঘন ঘন হরতালের সম্ভাবনাও তত বাড়ছে।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ বলেন, হরতাল সংস্কৃতি আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হরতালের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় থাকেন। বাংলাদেশে আসা পশ্চিমা ব্যবসায়ীরা হরতালের কারণে হোটেলেই বসে থাকেন।
এক ব্যবসায়ী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ঢাকায় আসার পর হরতালের কারণে তিনদিন তিনি হোটেল থেকে বের হতে পারেননি। কানাডার টরন্টোভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষক পরামর্শকদের একটি প্রতিনিধি দল তাদের বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে আসছেন না।
হরতালের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, সংিবধানে মত প্রকাশের ও বিক্ষোভ দেখানোর স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তাই আমি হরতাল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। তবে যৌক্তিক কারণ ছাড়া হরতাল ডাকা উচিত নয়।
