ছয় ঘণ্টা ফেরি বন্ধ থাকায় মারা গেল অ্যাম্বুলেন্সের রোগী!

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২১:৫৩

পিরোজপুর অফিস

কচানদীর চরখালী-টগড়া ফেরি সার্ভিস গতকাল মঙ্গলবার সকালে ড্রাইভার সংকটের কারণে ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এ ফেরিঘাটের চলাচলকারী দু’টি ফেরির ড্রাইভার ভোরে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়। ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় দুই পারে কয়েকশ যানবাহন আটকে যায়।

ফেরি ইজারাদারের স্টাফ খায়রুল জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের দুুইটি ফেরি চরখালী-টগড়া পথে চলাচল করে। এরমধ্যে আবার একটি মাঝে মাঝে অচল হয়ে যায়। গত সোমবার ভোর থেকে ড্রাইভার আব্দুর রশীদ (৫৫) একটানা ২০ ঘন্টা ফেরি চালানোর পর মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোমবার সকালে আব্দুর রব নামে আরেক জন ড্রাইভার অসুস্থতার কারণে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নেন। আব্দুর রশীদ রোজাদার হয়েও গরমের মধ্যে একটানা ডিউটি করায় তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়লে ফেরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় নদীর দুই পাড়ে যাত্রীবাহী গাড়িসহ মালবাহী অসংখ্য যানবাহন ছিল।

এরমধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে একজন রোগী সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে করে বহন করার সময় চরখালী ফেরিঘাটে তিনঘণ্টা অপেক্ষা শেষে ফেরি চালু হয়। এরপর এ্যাম্বুলেন্সটি ফেরিতে উঠতে পারলেও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ইউসুফ মল্লিক (৪০) নামে উক্ত রোগী পথেই মারা যান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন ইত্তেফাককে বলেন, চরখালী ফেরিতে স্থায়ী কোনো ড্রাইভার নেই। প্রেষণে অন্য ঘাট থেকে ড্রাইভার এনে ফেরি চালাতে হয়। প্রেষণে আনা দুুইজন ড্রাইভারই অসুস্থ থাকায় সাময়িকভাবে ভেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পার্শ্ববর্তী বেকুটিয়া ঘাট থেকে ড্রাইভার এনে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।