জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৭
নুরুল ইসলাম সাত ছেলেমেয়ের জনক। তিনি একজন কৃষক। তাঁর বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অনার্স করছেন। তাঁর খরচ জোগাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। মেজো মেয়ে সবেমাত্র এইচএসসি পাস করেছেন। তাঁকে আইটি বিষয়ে পড়াবেন বলে ভাবছেন তিনি। বাকিদের নিয়ে তিনি রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। তাঁদের গ্রামে একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে তাঁর স্ত্রী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার ছোট রাখার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণের সময় তিনি আরও জেনেছেন, জনসংখ্যা সব সময় অভিশাপ নয়, আশীর্বাদও হতে পারে। কেবল দরকার কৌশল পরিবর্তন। প্রশ্ন:ক. বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ কী? খ. জনসংখ্যানীতি বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে নুরুল ইসলামের দুশ্চিন্তার মূল অন্তরায় কী? এ সমস্যা নিরসনে বেসরকারি সংস্থাগুলো কী কাজ করছে, বুঝিয়ে বলো। ঘ. উদ্দীপকে নুরুল ইসলামের স্ত্রী প্রশিক্ষণের সময় জনসংখ্যা সম্পর্কে যে উক্তিটি জেনেছেন, তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো উত্তর: ক. বর্তমান বিশ্বে জনশক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। উত্তর: খ. দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায় যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকেই বলা হয় দেশটির জনসংখ্যানীতি। আর এ নীতির লক্ষ্য হলো, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের নাগরিকদের জীবনমানের উন্নতি এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। উত্তর: গ. উদ্দীপকে নুরুল ইসলামের সমস্যার অন্যতম কারণ হলো তাঁর পরিবারের অধিক সদস্যসংখ্যা। এ কারণে অর্থনৈতিক সমস্যা তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। ছেলেমেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হলে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে নুরুল ইসলামের এতটা সমস্যায় পড়তে হতো না। তাঁরা যদি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতেন, তাহলে তাঁরা আজ এ সমস্যার মুখোমুখি হতেন না। এ সমস্যা (জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে) নিরসনে বেসরকারি সংস্থাগুলো নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা কমিউনিটি পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পরিবার ছোট রাখার জন্য পরামর্শ ও শিক্ষা দেয়। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে তাদের উদ্বুদ্ধ করে। বাংলাদেশ সরকার দুটি সন্তানের পরিবার গড়ার যে জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, বেসরকারি সংস্থাগুলো এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। দেশে বাল্যবিবাহ রোধ ও বিবাহ বিলম্বিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জনসংখ্যা মোকাবিলায় বেসরকারি সংস্থাগুলো নানা উপকরণ তৈরির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে যাচ্ছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকা দান ও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে প্রশিক্ষিত করে তুলছে। ধর্মীয় নেতারা জনসংখ্যা হ্রাসের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন, তাই বেসরকারি সংস্থাগুলো ধর্মীয় কর্মশালার আয়োজন করে। উত্তর: ঘ. উদ্দীপকে নুরুল ইসলামের স্ত্রী প্রশিক্ষণের সময় জেনেছেন, জনসংখ্যা সব সময় অভিশাপ নয়, আশীর্বাদও হতে পারে। দরকার শুধু কৌশল পরিবর্তন। সম্পদ যেখানে সীমিত, সেখানে একটি দেশের জন্য বিশাল জনসংখ্যা বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে সেই বিপুল জনসংখ্যাও জনসম্পদে পরিণত হতে পারে। ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করেছে। চীন তাদের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করে তাদের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। আগামীর সম্ভাব্য পরাশক্তির দ্বারকে উন্মোচন করেছে। এশিয়ার শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। পিছিয়ে নেই আমাদের পাশের দেশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে ভারত তাদের জনসংখ্যাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৩ ভাগ ভারতীয? দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরশীল। আমরাও পারি আমাদের বিশাল জনশক্তিকে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দুর্বল অর্থনীতির চাকাকে সচল করে উন্নতির মূলধারায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকার বিগত বছরগুলোয় এ খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। যুবশক্তিকে সম্পদে পরিণত করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার প্রসার, কৃষিভিত্তিক শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার প্রদান ইত্যাদি বিবিধ কর্মসূচি সরকার গ্রহণ করেছে। আমাদের জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে কৌশলগুলো বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে হয়।