এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
লবণ আবহাওয়া অধ্যুষিত মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের পৌরসভায় পানি শোধন ও সরবরাহ কেন্দ্রের পুকুরের পানি তলানিতে ঠেকেছে। গ্রামাঞ্চলের পুকুরগুলোও প্রায় শুকিয়ে গেছে। বৃষ্টির দেখা নেই। এ অবস্থায় সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে এ এলাকার কয়েক লাখ অধিবাসী। পৌরবাসীদের অভিযোগ, পানি শোধনাগার কেন্দ্রে মাছ চাষ, পুকুরের চড়ায় গরু চড়ানো, সঠিক নিয়মে পুকুর খনন না করা, সময় মতো নদী থেকে পানি উত্তোলন না করা, অযোগ্য লোক দিয়ে শোধনাগার চালানোসহ নানা অনিয়মের কারণে শহর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি সরবরাহের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ছয় বছর ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ পৌর এলাকার দুই হাজার ৫০০ পরিবারকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সকালে ও বিকেলে সুপেয় পানি সরবরাহ করে আসছে। গত মাস থেকে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এ সরবরাহ একেবারেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পৌর পানি শোধনাগার কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রের বিশাল পুকুরটির তলানিতে সামান্য পানি আছে।
পানি শোধনাগারের পাম্পচালক শাহিন বলেন, পুরাতন পুকুরের কিছু অংশের খনন কাজ করায় পানি শুকিয়ে গেছে। তা ছাড়া নদীর পানি এখন অনেক লবণাক্ত।
এদিকে পৌর এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের একটি পুকুরে বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পানি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে এক কলস করে পানি সংগ্রহ করেন। কিন্তু সেই পানিও শেষের দিকে। এ ছাড়া পৌর এলাকার হাতেগোনা গুটিকয়েক পুকুরের পানিও শুকিয়ে গেছে। এসব পুকুর থেকে পৌরবাসী নিজস্ব উদ্যোগে কিছুটা হলেও সুপেয় পানি সংগ্রহ করতো। অপরদিকে পৌর এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন অধিকাংশ পুকুর গত কয়েক বছরে বালি দিয়ে ভরাট করে ফেলায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
শেহালাবুনিয়া এলাকার গৃহবধূ প্রতিমা রানী, মানসী বিশ্বাস ও ফাতেমা বেগম বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে কিছু এলাকায় ওপেন ট্যাপ দেওয়া হয়েছে। তা থেকে পানি আনতে লাইনে দাঁড়াতে হয়।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ বলেন, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নদীর মিষ্টি পানি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুকুরে তোলা হয়। কিন্তু এবার পানি তোলার মৌসুমে পুকুরে পর্যাপ্ত পানি ওঠানো হয়নি। তাই এ সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আমি পৌর মেয়রকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।
পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. জুলফিকার আলী বলেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নতুন একটি পুকুর পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে খনন না করেই হস্তান্তরের চেষ্টা করছে এবং পুরোনো পুকুরটি পুরো খনন না করে তড়িঘড়ি করে চালু করার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া নদীর পানিতে লবণ বেড়ে গেছে, পাইপ লাইনের কাজ চলছে। এ কারণে নদী থেকেও পানি তোলা যাচ্ছে না। তবে একটু বৃষ্টি হলেই সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
এদিকে পৌর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও সুপেয় পানির জন্য হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। এসব এলাকায় মিষ্টি পানির উত্স কয়েকটি বড় বড় পুকুরের পানি ইতোমধ্যে শুকিয়ে গেছে। এসব পুকুরে এখন নাম মাত্র যে পানি রয়েছে তাও অনেকটা লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামের মানুষ কয়েক কিলোমিটার দূর হেঁটে বা ভ্যানে করে খাবার পানি সংগ্রহে মরিয়া হয়ে থাকছে। ইতোমধ্যে লবণ পানির কারণে পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
