১৯৭১ সাল। বাংলার মাটিতে পাক-হানাদার বাহিনীর নগ্ন থাবা। ওরা কিছুতেই যেন বাংলার মানুষকে মুক্ত আকাশের নিচে স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে দিবে না। তা কি হয়! বাংলার জমিনকে শত্রুমুক্ত করার দীপ্ত শপথ নিয়ে প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে অদম্য সাহসে এদেশের দেশ প্রেমিক দামাল সন্তানেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে নর পশুদের বিরুদ্ধে। সারাদেশে যখন যুদ্ধের ভয়ংকর হানাহানি তখন নগরকান্দা থানার প্রতিটি এলাকায় চলছে পাক-হানাদার আর দেশীয় বিশ্বাস ঘাতক রাজাকার নরপশুদের বিরুদ্ধে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৮ মাস পর ৯ নভেম্বর নগরকান্দার মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে নগরকান্দা থানাকে পুরোপুরি শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হন। দেশমাতাকে মুক্ত করার শপথে বলীয়ান নগরকান্দার নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধারা শক্তিশালী পাক-হানাদার বাহিনীর এক গ্রুপের ৩২জনকে ২৯ মে চাঁদহাট এলাকার দিঘোলিয়া বিলে ও দমদম খালের সম্মুখ যুদ্ধে শুধুমাত্র দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি নিয়ে বিলের কাদার মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করতে সক্ষম হয়। এতে পাক-সেনারা ক্ষিপ্ত হয়ে ৩০ মে ও ১ জুন ফরিদপুর থেকে আরো পাকসেনা নিয়ে নগরকান্দার কোদালিয়া, ঈশ্বরদী, পাইককান্দী, পুরাপাড়া, বাঘাট, দুলালীসহ প্রায় ১০/১২ টি গ্রামে হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করে ও বাড়ীঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এসময় কোদালিয়া গ্রামের ৩৮ জন নারী-পুরুষকে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে এক কবরে সকলকে দাফন করা হয়। এর পর থেকে ঐ গ্রামের নামকরণ করা হয় শহীদ নগর এবং শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ৫ মে নগরকান্দার কুমার নদের সদরের খেয়া ঘাটে এক সম্মুখ যুদ্ধে নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধা আঃ বারেক মিয়া শহীদ হন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আঃ বারেক মিয়ার রক্তের শপথ নিয়ে ৮ নভেম্বর নগরকান্দা থানার মুক্তিযোদ্ধারা চারটি গ্রুপে বিভক্ত হন। একেক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন আঃ হামিদ জোমাদ্দার, আবু শহিদ মিয়া, আঃ আজিজ মিয়া, আলতাপ হোসেন খান।
