আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী তিন উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর -১ আসন গঠিত। ১৯৭৫ সালের পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। এবার ১৮ দলীয় জোট বি.এন.পি আসনটি দখলে নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন ৭ জন। এদের মধ্যে ফরিদপুর -১ আসনের বর্তমান এম.পি আব্দুর রহমান এলাকার উন্নয়নের ব্যাপক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এ আসনে আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সে দায়িত্ব পালনের। মনোনয়নের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি গত ৪ বছরে যে উন্নয়ন করেছি বিগত ৪০ বছরেও এ উন্নয়ন এলাকায় হয়নি। আমাকে মনোনয়ন দিলে জনগণ আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে না এ আমার একান্ত বিশ্বাস। তিনি এলাকার বিশেষ উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের প্রাণের দাবি ভাটিয়াপাড়া-কালুখালী রেল পুনঃচালু, চন্দনা-বারাশিয়া নদী খনন কাজ, বোয়ালমারী ও মধুখালীতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ ও ৫০০ আসনের বিশাল অডিটোরিয়াম নির্মাণসহ এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। ছাত্রলীগের কেন্দ ীয় কমিটির সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার দলীয় মনোনয়ন পেতে যথেষ্ট আশাবাদী। এলাকার জনসাধারণের তার প্রতি যথেষ্ট ভালবাসা ও সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় অবশ্যম্ভাবী এ কথা আমি বলে দিতে পারি। তিনি এলাকায় কম যাতায়াতের ব্যাপারে বলেন, এলাকায় গেলে গ্রুপিং রাজনীতি শুরু হয় ভেবে কম যাওয়া হয়। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে এলাকায় দলীয় গ্রুপিং প্রথমে বন্ধ করা হবে এবং আমার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। আলহাজ্জ কাজী সিরাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগ থেকে পর পর ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কোন দলেই নেই। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করব। আমি অন্য কোন দলের মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব না। এম এম মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়া বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সাথে যার সম্পর্ক তিনি মনোনয়ন পেলে জয়ী হবেন। আলহাজ্জ সিরাজুল ইসলাম নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ ীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি এলাকার সেবা করার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবেন। লায়ন মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা মনোবল ভেঙ্গে আশাহত আমি তাদের মনোবল ও শক্তি-সাহস ফিরিয়ে এনেছি। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর যাবত্ বঙ্গবন্ধুর নামে কোরবানি করে আসছেন বলে দাবি করেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামত নেয়ার জন্য মাননীয় নেত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। ডাঃ দিলীপ রায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড-এর চেয়ারম্যন ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি। তিনি ফরিদপুর -১ আসন থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপি তথা ১৮ দলের মনোয়ন প্রত্যশীদের মধ্যে শাহ্ মোহাম্মদ আবু জাফর গত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচন করেছেন। তিনি তিন বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন তিনিই পাবেন বলে আশাবাদী। দলীয় কোন্দলের ব্যাপারে তিনি বলেন, মনোনয়ন নিশ্চত হয়ে গেলে আর দলীয় কোন্দল থাকবে না । খোন্দকার নাসিরুল ইসলাম ফরিদপুর -১ আসন থেকে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস ম্যাডাম খালেদা জিয়া আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। ধানের শীষ যার কাছে নিরাপদ দল তাকেই মনোনয়ন দিবে। বিগত দিনে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আসলে জানতে হবে তারা কি বিএনপি করে না অন্য কোন দল থেকে ডিগবাজি দিয়ে এসেছে। সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগ পেলেই এ কাজটি করতে পারে। কিন্তু আমরা দলের সুদিন দুর্দিন সব সময় দলের পাশেই থেকেছি, আর যতদিন রাজনীতি করব ততোদিন বিএনপিতেই থেকে যাব। মো: মনিররুজ্জামান মনির জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। মনিরুজ্জামান মনির নিজেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির যোগ্য প্রার্থী মনে করেন। তিনি বলেন, সময় এসেছে প্রবীণদের পরিবর্তে নবীনদের মনোনয়ন দেয়ার। সেই ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস এ বছর মনোনয়নের ব্যাপারে ম্যাডাম খালেদা জিয়া ভুল করবেন না। মুফতি মোঃ শরাফত হোসাইন আল মারকাজুল ইসলামের পরিচালক। তিনি নব গঠিত গণসেবা আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক। মুফতি মোঃ শরাফত হোসাইন বিএনপির শরীক দল হিসেবে ফরিদপুর -১ আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময় আমরা শরীক দল হিসেবে পাশে থেকেছি। এ বছর আমরা বেশ কয়েকটি আসনের দাবিদার। তাই আমার বিশ্বাস, বেগম খালেদা জিয়া এ আসন থেকে শরীক দল হিসেবে আমাকেই মনোনয়ন দিবেন।
