আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের আভ্যন্তরীণ বিরোধ চাঙ্গা হয়ে উঠছে। পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এখন আর চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা ক্রমেই রাজপথের দিকে তীব্র হয়ে ছুটছে। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়া সময় পর্যন্ত কারো কারো মধ্যে বিরোধ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছে অনেকে।
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, বোয়ালমারী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম মোসারফ হোসেন, দলছুট সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম ও তরুণ নেতা মোঃ সাখাওয়াত্ হোসেন। এছাড়া এক অতিথি প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে।মনোনয়ন প্রত্যাশী এ সব প্রার্থীর মধ্যে এমপি আব্দুর রহমান মূলত অন্যদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাকে হঠানো বা সরানোর প্রশ্নে অন্যদের মধ্যে এক রকম সমঝোতার মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে এমপি আব্দুর রহমান ও বোয়ালমারী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ পুরনো হলেও এবার উভয়ের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধের আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১ জুন দলীয় হাই কমান্ডের কাছে এমপি আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নানা অভিযোগ তুলে এম এম মোশাররফ হোসেন প্রকাশ্য বিরোধের সূচনা করেছেন। সেটি ছিল এলাকাভিত্তিক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত বিনিময় অনুষ্ঠান। অভিযোগের তীব্রতা সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাকে ধমকের সুরে থামিয়ে দেন। তাতে আব্দুর রহমান ও মুশা ভক্তদের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি হোক না কেন মুশা মিয়া যে এমপির কর্মকান্ডে তার অবস্থান তুলে ধরার দুঃসাহস দেখিয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। কমপক্ষে মনোনয়নপ্রাপ্তির সময় পর্যন্ত এ দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ আব্দুর রহমানও এবার মুশা মিয়ার হাতে বাইয়াত নিয়ে নির্বাচন করবেন না বলে শোনা যাচ্ছে। এমপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন আরেক তরুণ নেতা মো: শাখাওয়াত্ হোসেন। তিনি বক্তব্য-বিবৃতিতে এমপিকে এক হাত দেখিয়েই ছাড়েন। লিয়াকত সিকদার অবশ্য পা ফেলেন টিপে টিপে। তিনি কলকাঠি নাড়েন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে। আর কাজী সিরাজুল ইসলাম দলে ফেরার প্রধান অন্তরায় মনে করেন আব্দুর রহমান এমপিকে। তিনিও আগুনে বাতাস দিতে সুযোগ নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। সুতরাং নির্বাচন কেন্দ্রিক ফরিদপুর-১ আসনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ বিরোধ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাতে এক প্রান্তে এমপি আব্দুর রহমান এবং অন্য প্রান্তে রয়েছেন অন্যরা।আর বিএনপিতে আভ্যন্তরীণ কোন্দল সহিংস রূপ নিয়েই আছে। সাবেক দুই সংসদ সদস্য শাহ মো: আবু জাফর এবং খন্দকার নাসিরুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মারমুখী অবস্থান বিরাজ করছে। উভয় গ্রুপের মধ্যে মামলা-হামলা প্রায় লেগেই থাকে। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় এ দুই নেতার মধ্যে শক্তির মহড়া চলছে। গত ৮ জুলাই বোয়ালমারী বাসস্টান্ডে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সমাবেশের আয়োজন করলে শাহ মো: আবু জাফর পাল্টা কর্মসূচি দেন। পুলিশ কাউকে সমাবেশ করতে না দিলেও শাহ জাফর সমর্থকরা খন্দকার নাসিরের ম?ঞ্চ ভেঙ্গে দেয়।
দলে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছেন শাহ মো: আবু জাফর। স্থানীয় প্রায় সব কমিটি তার কর্মী-সমর্থকদের দখলে। দল পরিবর্তন করে শাহ মো:আবু জাফরের বিএনপিতে যোগদান ঘটলেও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দলে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বিএনপির পরীক্ষিত নেতা। জেল-জুলুম সহ্য করে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থাকায় দলের একটি অংশ তার সাথেই রয়েছেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক নেতা মনিরুল ইসলাম মনির যুব দলের কেন্দ ীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভপতি। এলাকায় তিনি নির্বাচনী পদচারণাও বাড়িয়ে দিয়েছেন। করছেন সভা-সমাবেশ। তিনিও শাহ মো: আবু জাফরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন। কামারখালীতে এক সমাবেশে উভয়ের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধও হয়েছে।
