ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত সরকারি আইনউদ্দীন কলেজ। ১.২৪ শতাংশ জমির উপর প্রশাসনিক ভবন সহ মোট তিন তলা বিশিষ্ট ৩টি এবং দ্বিতলা বিশিষ্ট ১ টি ভবন রয়েছে। তবে কলেজের নামে মোট সাড়ে ৩ একর জমি রয়েছে। যে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ছেলেমেয়েরা অল্প খরচে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। আর এ কলেজটি ৩ একর জমি ও নগদ ২ লক্ষ টাকা দান করে প্রতিষ্ঠা করেছেন এলাকার বিশিষ্ট দানবির ও শিক্ষানুরাগি মরহুম আইনউদ্দীন আহমেদ।
আইনউদ্দীন কলেজটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকে কলেজটি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মঞ্জুর সার্বিক সহযোগিতায় তার তত্বাবধানে কলেজটি বাস্তবে রূপনেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তত্কালীন সরকার প্রধান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যন রাষ্ট্রপািত হোসেন মুহাম্মাদ এরশাদ ১৯৮৮ সালের ১১ জানুয়ারি মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল এক জনসভায় কলেজটিকে সরকারি ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই কলেজটি সরকারি কার্যক্রম চালু হয়। কলেজে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন মরহুম আবুল হাসেম। সরকারি করণের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ আশরাফ আলী। কলেজ টির বর্তমান অধ্যক্ষ পদে রয়েছেন প্রফেসর আলাউদ্দিন মোল্লা।
সরকারি আইনউদ্দীন কলেজ সরকারি কলণের পর ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ফলাফলের একটি বিপর্যয় ঘটে তাতে দেখাযায় তিনটি শিক্ষা বর্ষে ২৬% , ১৮%, এবং ৩০% ছাত্র-ছাত্রী পাস করে। এই বিপর্যয়ের পর ২০০৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রফেসর আলাউদ্দীন মোল্লা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরে থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কলেজটিকে প্রথমে রাজনীতি মূক্ত ও ধুমপান মুক্ত ঘোষণা করেন। লেখাপড়ার মান নিয়ন্ত্রনের জন্য যা কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ নিদৃষ্ট ড্রেস পরে কলেজে প্রবেশ করা এবং ১০ টার পরে কলেজের সকল গেট বন্ধ করে রাখা পরে ক্লাস শেষে গেট খুলে দেয়। বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশেরে কোন সুযোগ নেই।
এর ফলে ২০০৬ সালেই কলেজটির এইচ এস সির ৫১% , ২০০৭ সালে ৬৫% ভাগ, ২০০৮ সালে ৭০% ভাগ ছেলে মেয়ে পাস করে। এ ছাড়া গত ২০১২ সালের এইচ এস সি পরীক্ষায় ৯৩% ছাত্র-ছাত্রী পাস করে জেলার ফলাফলে শীর্ষে অবস্থান করার গৌরব অর্জন করে। এ ছাড়া ২০০৬ সালের পর থেকেই কলেজটিতে ফলাফলে কমবেশী জিপিএ-৫ পেতে থাকে। ২০১১ সালে এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পায় ১৭টি এবং ২০১২ সালে জিপিএ-৫ পায় ১১টি। অধ্যক্ষ প্রফেসর আলাউদ্দীন মোল্লা ২০১৩ সালের এইচ এস সির ফলাফলে ৪০ থেকে ৫০ জন জিপিএ-৫ পাবে বলে আশা করছেন।
এ দিকে ১৯৯৫ সালে কলেজটিতে ডিগ্রী শাখার খোলা হয়। এবং ২০১২-২০১৩ শিক্ষা বর্ষ থেকে তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে বিষয় সমূহের পর্যাপ্ত ল্যাবরেটারির যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা রয়েছে। ১২ টি কম্পিউটার, তিনটি ল্যাপটপ রয়েছে সেখানে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ ।
অধ্যক্ষ প্রফেসর আলাউদ্দীন মোল্লা জানান, বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে কলেজটিতে মোট ২৫০০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় কলেজটিতে ভবন অপর্যাপ্ত রয়েছে। ফলে শিক্ষা মান উন্নয়নে ব্যহত হচ্ছে। পাঠ দানেও হচ্ছে অসুবিধা। গদাগদি করে শ্রণিতে পাঠদান করতে হচ্ছে। এ ছাড়া কলেজটিতে শিক্ষকের পদ রয়েছে ৩৯ জন। অথচ বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ২৪ জন। ১৫ টি শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে। যে কারণে শ্রেণি কক্ষে পাঠ দানে ব্যহত হচ্ছে। কলেজে অনার্স থাকা সত্বেও উপ-অধ্যাক্ষের পদ সৃষ্টি হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একাদিক বার লেখালেখি করা হয়েছে। কিন্ত কোন ব্যবস্থা হয়নি। ডিগ্রী প্যাটার্ন অনুসারে আরো শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা খুবই প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
এত বড় কলেজ হওয়ার সত্বেও তয় শ্রেনীর কর্মচারী একটি মাত্র পদ সৃষ্টি আছে এবং চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী ৩টি পদ সৃষ্টি আছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেনীর ১২ পদ সৃষ্টি হওয়ার কথা এবং তয় শ্রেনীর ১৭টি কর্মচারী পদ থাকার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ মহোদয় মন্ত্রনালয়ে লেখার পরও কোন কাজ হয়নি। কলেজ টিতে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী আরও একাডেমিক ভবনের খুবই প্রয়োজন। কলেজে জায়গা থাকা সত্বেও একাডেমিক ভবন পাচ্ছে না দীর্ঘদিন। তবে ফ্যাসালিটিজ অধিদপ্তরের তত্বাবধানে ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সরকার একটি তয় তলার সমপ্রসারণের কাজ শুরু করেছেন।
এছাড়া দুরের ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার সুবিধার জন্য কোন ছাত্রবাস বা ছাত্রীনিবাসের কোন ব্যবস্থা নেই। কলেজ অধ্যক্ষ আলাউদ্দীন মোল্লাসহ এলাকা বাসীর দাবী এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার মান উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করত এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখার।
