বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অলস পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ টাকা এনজিও ও ক্ষুুদ্রঋণ সংস্থার (এমএফআই) মাধ্যমে কৃষকের হাতে পৌঁছানোর দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষিঋণের সুদ এক অঙ্কে নামিয়ে আনার বিষয়েও জোর দাবি তোলা হয়। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাসমূহের নেটওয়ার্কের নেতারা এ দাবি জানান।
কোস্ট ট্রাস্ট, সিডিএফ (ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম) ও ইনাফি-বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সিডিএফ-এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আউয়াল সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক তারিক সাইদ হারুন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইনাফি-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আতিকুন্নবী এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনজিও ও ক্ষুুদ্রঋণ সংস্থাগুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে শুধু ২০১১ সালে প্রায় দুই কোটি সাত লক্ষ দরিদ্র মানুষের মাঝে কৃষি, মত্স্য ও পশু সম্পদ খাতে ক্ষুুদ্রঋণ বিতরণ করে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪০০ বিলিয়ন টাকা। অথচ একদিকে এই এনজিও ও ক্ষুুদ্রঋণ সংস্থাগুলো কৃষিঋণ বিতরণে যেমন তহবিল সংকটে ভুগছে, তেমনি বাণিজ্যিক ব্যাংকে অবিনিয়োগকৃত অলস টাকার পরিমাণ ৭২ হাজার কোটি টাকার মতো। ব্যাংকে অলস পড়ে থাকা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জনগণের সম্পত্তি। কাজেই জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এই টাকা ফেলে না রেখে ব্যবহার করা উচিত। কৃষিখাতে বিনিয়োগ করা উচিত। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায়ও (সিএসআর) দরিদ্র মানুষের জন্য ঋণ বরাদ্দ করতে পারে।
