বোয়ালমারীতে মুক্তি যুদ্ধেও সময় পাক বাহিনীর দ্বারা লুট, অগ্নি সংযোগ এবং হত্যাকান্ডের রয়েছে এক করুণ ইতিহাস। এই উপজেলায় ৩৫৭টি বাড়ীতে এবং বাজারে লুট ও অগ্নি সংযোগ করে পাক হানাদার বাহিনী। শতাধিক সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ময়ানদিয়ায় ৩২ জন রয়েছে হিন্দু পরিবারের লোক। বদ্ধভূমি রয়েছে দুইটি। বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ও গোহাইল বাড়ীতে অবস্থিত এ বদ্ধভূমিতে বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ ধরে এনে হত্যার পর মাটি চাপা দেয়া হয়।
এলাকার মুজিব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন শাহ মো: আবু জাফর। তার নির্দেশনায় এলাকার মুক্তি যোদ্ধারা পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয় বনচাকী, মুজুরদিয়া, তেলজুরী এবং অজেলবেড়া নামক স্থানে। এ সব স্থানে পাক বাহিনী পিছু হটলেও অজেলবেড়ার যুদ্ধে ৯ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এ ছাড়া করিমপুরে মজিবর রহমান, তেলজুরীতে রিজাউল হক মৃধা এবং জয়দেবপুরে আতিয়ার রহমান ও মহিউদ্দীন শহীদ হন। এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভাটিয়াপাড়া থেকে পাক বাহিনীর ১০ জনকে ধরে এনে ফরিদপুরে ভারতীয় সেনাদের কাছে হস্তান্তর করেন।বিজয়ের পর বিভিন্ন সময়ে এলাকার অনেক মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেছেন। যারা জীবিত আছেন তাদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো: আবু জাফর, অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, নওয়াব উদ্দীন আহমেদ টোকন, গোলাম ছরোয়ার মৃধা, মো: আলাউদ্দীন আহমেদ, কে এম জহুরুল ইসলাম, মোসাররফ হোসেন প্রমুখ এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত আছেন।
