নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে এখন রসালো ফলের সমারোহ। কাঁঠাল, লিচু, আনারসহ নানা মৌসুমী ফলের মৌ মৌ গন্ধ এ পাহাড়ি জনপদের হাটবাজারজুড়ে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ শেষে এখান থেকে ফলের চালান চলে যাচ্ছে সমতলের বিভিন্ন স্থানে।
পাহাড়ের আম বাজারে আসতে আরো কিছুদিন দেরি হলেও ইতোমধ্যে বাজার দখল করে নিয়েছে লিচু, আনারস, কাঁঠাল প্রভৃতি মৌসুমী ফল। রমজানের শুরুতেই লিচু বাজারে আসতে শুরু করে। চায়না-টু বা দেশি লিচু বিক্রি হচ্ছে ১শ হতে ২শ টাকায়। চায়না-থ্রি বা চায়না-টু সম্পূর্ণ পরিপক্ব হতে আরো সপ্তাহ ২-১ লাগার কথা থাকলেও বেশি দামের আশায় বাগানীরা এখনই বিক্রি শুরু করেছে। তবে বাগানীরা জানায়, বানর, বাদুড়, কাঠবিড়ালীর আক্রমণের কারণে তরিঘরি করে বেঁচতে হচ্ছে। লিচুর চেয়ে শতগুণ বেশি যাচ্ছে কাঁঠাল। রমজান হওয়ায় এবার কাঁঠালের দাম গতবারের চেয়ে অনেক কম। একশ কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার হতে ৬ হাজার টাকায়।
খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এবার প্রচুর ফলন হয়েছে হানিকুইন নামের রসালো মিষ্টি আনারস। স্থানীয়ভাবে জলডুবা আনারস নামে পরিচিত এ আনারসের কদর সর্বত্রই। স্থানীয় বাজারে প্রতি জোড়া আনারস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আমও প্রচুর উঠছে হাটবাজারে। বাগান মালিকরা জানান, ঈদের পরই তারা ফল সংগ্রহ শুরু করবেন। খাগড়াছড়ির সবচে বড় মৌসুমী ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত গুইমারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, আনারস, কলা ও কাঁঠালে সয়লাব। যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এ বাজারটি। পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি ও মহালছড়িসহ আশেপাশের এলাকা থেকে ভোরের সূর্য ওঠার পর থেকেই বাজারে আসতে শুরু করেছে আনারস, কলা ও কাঁঠাল। একদিন আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এ বাজারে চলে আসেন। পাইকারদের হাত ধরে ট্রাকভর্তি আনারস, কলা ও কাঁঠাল যাচ্ছে সমতলের বিভিন্ন জেলায়। একই দৃশ্য দেখা যায় মাটিরাঙ্গা বাজারেও। সমতল জেলার পাশাপাশি হওয়ায় বিশেষ করে রামগড়, মানিকছড়ি, গুইমারা ও মাটিরাঙ্গার হাটবাজারে ফল ফলাদির আমদানি এবং বিকিকিনি সবচেয়ে বেশি।
নোয়াখালী থেকে আসা পাইকার মো. দুলাল মিয়া বলেন, পাহাড়ের ফল ফরমালিনমুক্ত নিরাপদ বলেই সমতলে এর চাহিদা ব্যাপক। এখানকার ফলের প্রতি সমতলের মানুষের আগ্রহ বরাবরই অন্যরকম। বিগত ৪/৫ বছর ধরে স্থানীয় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আনারস, কলা, লিচু ও কাঠাল সংগ্রহ করে নিয়ে যান বলেও জানান তিনি। স্থানীয় চাষিদের মতে, উত্পাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কম। ফলে তারা আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হচ্ছেন না। কাঁঠাল নিয়ে আসা স্থানীয় পাইকার অংলাপ্রু মারমা মনে করেন সমতল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং রমজানের কারণে তারা ভালো দাম পাচ্ছেন না।
