আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর সদর আসন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:০৫
আওয়ামীলীগ না বিএনপি ? ফরিদপুর সদর আসনে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে সেই জল্পনা এই আসনের ভোটারদের মাঝে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অপরদিকে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ ীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ায় তার নির্বাচন অনিশ্চিত। এছাড়া বড় দুই দলের অন্য কোন প্রার্থী মনোনয়োন দৌড়ে না থাকায় ভোটযুদ্ধ এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই হচ্ছে বলে ভোটারদের ধারণা। ২০০৯ সালের সর্বশেষে সংসদ নির্বাচনে তত্কালীন সময়ে সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন কামাল ইউসুফ। তার পরিবর্তে এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়োন দেয়া হয় শরীক দল জামায়াতের আলী আহসান মুজাহিদকে। মনোনয়ন না পেয়ে কামাল ইউসুফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করেন। অন্যদিকে বড় ধরনের দলীয় কোন্দল না থাকায় এবং বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় প্রায় ৩৭ বছর পরে খন্দকার মোশাররফের জয়ের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর সদর আসন আওয়ামী লীগের ঘরে যায়। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইমামউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হন। এরপরে ২০০৯ সালে খন্দকার মোশাররফ এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। বৃহত্তর ফরিদপুরকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বলা হলেও নানা রাজনৈতিক জটিলতায় আওয়ামী লীগকে এই আসনটি হারাতে হয়।আসন্ন নির্বাচনেও নতুন সমীকরণের চিন্তা-ভাবনা করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। কেননা এই বড় দুই দলেই রাজনৈতিক অন্তর্কোন্দল এখন তুঙ্গে। ক্ষমতাসীন দলে গত নির্বাচনের পরেই এই অন্তর্কোন্দল দেখা দেয়। এই দলের দুইটি গ্রুপের একদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী গ্রুপ অপরদিকে প্রয়াত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান লাভলু গ্রুপ। লাভলু মারা যাওয়ার পরে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে এই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। মন্ত্রী গ্রুপ সৈয়দ মাসুদকে অপরদিকে লাভলু গ্রুপ মনিরুল হাসান মিঠুকে পৃথকভাবে তাদের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন। এদিকে এক সময় সৈয়দ মাসুদ মন্ত্রীর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত হলেও পৌর নির্বাচনের পর থেকে তাদের মাঝেও দূরত্ব বাড়তে থাকে।গত ১ জুন প্রধানমন্ত্রীর সাথে তৃণমূল নেতাদের বৈঠকে শেখ হাসিনা ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সবাইকে মিলেমিশে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়ার পরেও তারা এক হতে পারেনি। তার প্রমাণ মিলে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়। এই সভায় মন্ত্রী গ্রুপের কেউই উপস্থিত হননি। তাই ফরিদপুরবাসী বলছে ক্ষমাতাসীন দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তাদের ঘরের দ্বন্দ্ব।অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এর সম্ভাব্য প্রার্থী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এই আসন থেকে ৪ বার নির্বাচিত সাংসদ। তিনি প্রথম নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৭৯ তে, এরপর ৯১, ৯৬ এবং ২০০১-এও তিনি নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ৩ বার তিনি মন্ত্রিত্ব লাভ করেন। বড় এই দলটিতেও রয়েছে দলীয় কোন্দল । এই দলটির একদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল্ ইবনে ইউসুফ। এই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব মূলত দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে, এছাড়া এদের মাঝে দ্বন্দ্বের উল্লেখযোগ্য কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।