মেঘনায় মিলছে না ইলিশ

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২১:৫৫

রায়পুরের জেলেরা হতাশ

 এম. আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে আরো দুসপ্তাহ আগে। দুই মাস পর গত দুসপ্তাহ ধরে নদীতে জাল, নৌকা, ট্রলার ও মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েছেন রায়পুরের প্রায় ৭ হাজার জেলে। ইলিশ শিকারের নেশায় মেঘনা নদীর এপার-ওপার দিন-রাত চষে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু দেখা মিলছে না ইলিশের। দুচিন্তায় চরম হতাশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন রায়পুরের জেলেরা।

মত্স্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেন। স্থানীয় প্রশাসন ১ মার্চ থেকে মেঘনায় সব ধরনের জাল ফেলা বন্ধ করে দেয়। বেড়িরমাথার কয়েক জেলে বলেন, ‘গত ১ মে থেকে নদীতে মাছ ধরতে নামছি। প্রতিদিনই আমাগো সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু সারাদিন-রাত জাল বাইয়া মাত্র তিন থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ইলিশ মাছ পাই। এমনেতেই তো আগের দেনায় জর্জরিত তার ওপর আবার নতুন কইরা দেনায় পড়ছি।’

ঘাটের মালিক মনির মোল্লা বলেন, জেলেরা প্রতিদিন নদীতে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। মাছ না পাওয়ায় ঘাটে পাইকার আসে না। দু-একজন আসলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। তাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য।’ এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, নদীতে ইলিশ মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে বলে শুনেছি। সামনে বৃষ্টিপাত হলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। তবে আগামী এক সপ্তাহ কিংবা ১০ দিনের মধ্যে ইলিশ না পাওয়া গেলে বুঝতে হবে জলবায়ুগত সমস্যা রয়েছে।