ঈদের আগে শ্রমিকদের জুলাই মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস না দেয়ায় এখানকার একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে মালিক পক্ষ ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর বিসিক শিল্প এলাকার বৃহত্ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে খান সন্স টেক্সটাইল প্রাঃ লিমিটেড, ফরচুন সুজ, অনন্যা ফুটসসহ মাঝারি আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ঈদের মাত্র ৪ দিন আগেও বেতন বোনাসের নিশ্চয়তা দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে শ্রমিকরা। গত কয়েক দিন যাবত্ বিসিক নগরীর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেতন -বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল বলে বিসিক সূত্র জানায়। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে খান সন্সের মালিকানাধীন টেক্সটাইল মিলস ফ্যাক্টরীর কর্মকর্তারা শ্রমিকদের গতকাল রবিবার ১১টার মধ্যে বেতন-বোনাসের আশ্বাস দেয়। সে অনুযায়ী শ্রমিকরা গতকাল রবিবার কাজে যোগ দিলেও সকাল ১১টা নাগাদ বেতন দিতে অপারগতার কথা জানায় কর্মকর্তারা। তাত্ক্ষণিক ক্ষোভে ফেটে পড়ে শ্রমিকরা। দুপুর ২টার দিকে ৩ শিফটের ৭ শতাধিক শ্রমিক জড়ো হয়ে মূল ফটক ও প্রশাসনিক ভবনসহ কয়েকটি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, তাদের বেতন ২২শ’ টাকা থেকে ২৫শ’ টাকার মধ্যে। বোনাস দেয়া হয় ২শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮শ’ টাকা। ফ্যাক্টরীর কর্মকর্তারা শ্রমিকদের আন্দোলন না করার জন্য শাসিয়ে বিদায় করতে চাইলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এক পর্যায়ে ফ্যাক্টরীর ইন্সপেক্টর আদম আলীকে মারধর করে।
শ্রমিকরা জানায় দু’দিন মালিকপক্ষের লোকজনের কাছে বেতন -বোনাসের জন্য ধরনা দিয়ে সঠিক কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে শনিবার বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে তারা ফ্যাক্টরী বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিলসহ আন্দোলন শুরু করে। তাদের আন্দোলন ঠেকাতে কর্মকর্তারা রবিবার বেতন-বোনাস দেয়ার আশ্বাস দেয়। সে অনুযায়ী তারা গতকাল কাজে যোগদান করলেও তাদের শুধুমাত্র বোনাস দেয়ার কথা জানায় মালিক পক্ষ। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শ্রমিকরা। তারা অভিযোগ করেন ২শ’ বা ৮শ’ টাকায় এ বাজারে ঈদ করা সম্ভব নয় তা মালিক পক্ষ বুঝতে চাইছেন না। আন্দোলন ঠেকাতে শনিবার থেকেই বিসিক এলাকায় বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ভাড়াটিয়া মাস্তান আনা হয় বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে খান সন্স মিলস’র ডিজিএম খায়রুল আলম জানান, ঈদের পূর্বে বেতন ও বোনাস দেয়ার বিষয়ে মালিক পক্ষের সাথে আলাপ করা হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেয়া সম্ভব হবে।
বিসিকের অপর বৃহত্ প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ কোম্পানির ফ্যাক্টরীতে প্রায় সাড়ে ৮শ’ শ্রমিক তাদের বেতন বোনাস-সম্পর্কে এখনো মালিক পক্ষের কাছ থেকে কোন নিশ্চয়তা পায়নি। এ ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা অভিযোগ করেন তাদের ওভার টাইম করানোর টাকাও দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ২/৩ মাসের ওভার টাইমের টাকা বাকি থাকা ফরচুন সুজ কোম্পানির কার্টিং, সুইং, ফিনিসিং বিভাগের শ্রমিকরা জানান ওভার টাইমের টাকাসহ ঈদের পূর্বে বেতন -বোনাসের কথা জানতে চাইলে কর্মকর্তারা তাদের নানান ভাবে হয়রানি শুরু করে। মালিক পক্ষের লোকজন পুলিশ খবর দিয়ে তাদের মামলায় জড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ব্যাপারে ফরচুন সুজ কোম্পানির কর্মকর্তা শাহীন ইত্তেফাককে জানান, ২/১ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের গত মাসের বেতন ও বোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওভার টাইমের টাকাও পরিশোধ করা হবে বলে ফরচুন কর্তৃপক্ষ দাবি করে।
বিসিক নগরীতে গিয়ে দেখা গেছে এসব প্রতিষ্ঠানে পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে নারী শ্রমিক বেশি হওয়ায় তাদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নিচ্ছে মালিকপক্ষের লোকজন। টেক্সটাইল মিলে কর্মরত নারী শ্রমিকরা জানান, তাদের দিয়ে ভারী কাজসহ পুরুষদের যাবতীয় কাজ তাদের দিয়ে করানো হলেও ঈদের আনন্দ নেই তাদের মনে। এ প্রতিষ্ঠানে আগে বহু সংখ্যক পুরুষ শ্রমিক থাকলেও নানান অজুহাত দেখিয়ে তাদের ছাঁটাই করে নারী শ্রমিক নিয়োগ দেয়ার কথা জানান শ্রমিকরা। পুরুষ শ্রমিকরা নায্য অধিকার বঞ্চিত হলে আন্দোলন করায় নারী শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠান মালিকরা বেছে নেন বলে শ্রমিকরা জানায়।
