রাজশাহীতে কমিশনারসহ তিন কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৩
ঘুষের টাকা না পেয়ে করদাতার অজ্ঞাতে তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগে রাজশাহী কর অঞ্চলের কমিশনার ও অপর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার রাজশাহীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলা হয়েছে। রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও চিকিত্সক অভিজিত্ দাসের মামলা আমলে নিয়ে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজশাহীকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। রাজশাহী অঞ্চলের কর কমিশনার আ.জ.ম. জিয়াউল হক, সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম ও কর পরিদর্শক আবুল বাশারকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২০১০-১১ অর্থ বছরে করদাতা অভিজিতের আয় অন্যায়ভাবে ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ২০ টাকা দেখিয়ে তার ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫০৫ টাকা আয়কর নির্ধারণ করা হয়। মামলার বাদী ও করদাতা এই পরিমাণ কর দিতে আপত্তি তুলে বিভাগীয় আপিল দায়ের করেন। আপিলটি করদাতার অনুকূলে নিষ্পত্তি এবং তার আয়ের পরিমাণ ২৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯০০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। আপিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করদাতাকে সংশোধিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আবারও অভিজিতের আয়ের পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়িয়ে ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭০০ টাকা দেখিয়ে তার ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকা আয়কর নির্ধারণ করেন। তাদের বাড়তি করের এই দাবিনামাটি তারিখ পিছিয়ে গত ১৫ এপ্রিল তারিখে স্বাক্ষরিত দেখানো হয় এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়। এই দাবিনামা অভিজিতের কাছে গত ২৬ মে সরবরাহ করা হয়। এর বিরুদ্ধে গত ২৬ জুন অভিজিত্ রাজশাহী কর অঞ্চলে আবার আপিল দায়ের করেন। মামলার আরজিতে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিদের পাঁচ লাখ টাকা ঘুষের দাবি না মেটানোয় বারবার অন্যায়ভাবে করদাতার আয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছিল এবং বারবার ঘুষের টাকার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। তাড়াতাড়ি এই টাকা পাওয়ার জন্য আসামিরা মরিয়া হয়ে উঠছিলেন। এই ঘুষের টাকা না দেয়ায় আপিলকে পাশ কাটিয়ে ২৯ জুন আসামিরা করদাতার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখার সোনালী ব্যাংকের হিসাব থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকা তুলে নেন এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করেন। এ জন্য তারা সোনালী ব্যাংকে একটি নোটিস জারি করেন, যা বেআইনি। অথচ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এভাবে টাকা উত্তোলন ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার ব্যাপারে করদাতাকে কিছুই জানানো হয়নি। আরজিতে দাবি করা হয়েছে, এর মাধ্যমে করদাতাকে অসম্মানিত, মানসিক নিপীড়ন ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য কর কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সহকারী কর কমিশনার ও মামলার দুই নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কর কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন।