ত্রিধারায় বিভক্ত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। তিন বছর আগে অপূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই অপূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নতুন কমিটি গঠনে নানা উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। রমজানের মধ্যে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিল সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড সম্মেলনকে কেন্দ করে ভাংচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অনেক স্থানে কাউন্সিল পণ্ড হয়েছে। পুলিশ প্রহরায় নেতৃবৃন্দকে সভাস্থল ত্যাগ করতে হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিনের। সমপ্রতি ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশ কয়েকটি কাউন্সিল সভায় তাদের দু’জনকে একসাথে দেখা গেলেও কমিটি গঠন নিয়ে তাদের উপস্থিতিতেই দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এর ফলে সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়।
মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে এবং বিগত সংসদ নির্বাচনের পূর্ব থেকেই নগরীর কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নূরুল ইসলাম বিএসসি’র সরাসরি বিভক্তি রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্মেলনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে তাকে দেখা যায়নি। নূরুল ইসলাম বিএসসি প্রথম থেকেই আলাদা অবস্থান থেকে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
নগর আওয়ামী লীগের মূল এ তিনটি ধারা ছাড়াও বেশ কয়েকটি উপধারা রয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে কোন পদ-পদবী না থাকলেও নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত আ.জ.ম নাছির উদ্দিন নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে চলেন। তিনিও মধ্যপন্থী একটি গ্রুপ নিয়ে রাজনীতি করেন। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমুখী অবস্থানে রয়েছেন বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। এ বিরোধ শুরু হয় যখন এমএ লতিফ চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ছিলেন এবং এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ছিলেন তখন থেকেই। চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে এমএ লতিফ ভিন্নমত পোষণ করায় তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে এমএ লতিফ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এ বিরোধ আরো চরম আকার ধারণ করে। যা বর্তমানেও বিরাজমান। ফলে বন্দর পতেঙ্গার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্মেলন হলেও এমএ লতিফের উপস্থিতি দেখা যায়নি। অপরদিকে নগর আওয়ামী লীগ নেতা এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুস ছালামের সাথেও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী মতবিরোধ রয়েছে। তাদের একসাথে কোন কর্মসূচিতে দেখা যায় না। এক প্রকার বিপরীত মেরুতে দু’জন অবস্থান করছেন। এভাবে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপের কারণে নগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন এক প্রকার দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও তা নিয়ে ইতিমধ্যে আপত্তি উঠেছে। কমিটিতে একটি গ্রুপের লোকজনকে প্রাধান্য দেয়া ছাড়াও কতিপয় বিলবোর্ড ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী এবং মামলার আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ করা হয়। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে নগর ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ায় পুরনো কমিটি এক প্রকার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। তবে যে কোন দিন নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং সহযোগী সংগঠনসমূহ নিয়ে কেউ স্বস্তিতে নেই।
