সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে পুনরায় নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী সংসদ নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে তাকেই মেনে নেবো উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে ভোট একটি পবিত্র আমানত। এটি যেন দুর্নীতিবাজ ও অসত্ লোকদের না দেয়া হয়। তাহলে ভোটের খেয়ানত করা হবে। গতকাল রবিবার বহু প্রতীক্ষিত কুড়িল ফ্লাইওভার ও বালু সেতু উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। এজন্য তিনি আগামী নির্বাচনে আবারো তার দল আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জানি না দেশের মানুষ আবার সেই অন্ধকারে ফিরে যাবে কিনা? দেশের মানুষ যদি আবার অন্ধকারে ফিরে যায় তাহলে আমার বলার কিছুই নেই। তবে আমি দেশবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই। ভোট একটি পবিত্র আমানত। এর খেয়ানত করবেন না। এটি যেন দুর্নীতিবাজ ও অসত্ ব্যক্তিদের দেয়া না হয়। বিএনপি সরকারের সময় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল। ’৯৬ সালে এসে আমরা মানুষের হাতে মোবাইল দিয়েছিলাম। এবার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের হাতে হাতে ল্যাপটপ দিয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করেছি।
কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এতে দুর্নীতি থাকলে এতো তাড়াতাড়ি এই নির্মাণ কাজ শেষ হতো না। শুধু দেশপ্রেম আর জনগণের জন্য আন্তরিকতা থাকার ফলেই এর নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভোট চুরি করি না। আমাদের সময় সবগুলো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই জয়ী হবে। আমরা তাকেই মেনে নেব।
তিনি বলেন, আমি নিজেই প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে বলেছিলাম। তা না হলে মানুষ ভুলে যাবে দেশে লোডশেডিং ছিল। দেশে বর্তমানে লোডশেডিং হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তবে কিছু কিছু জায়গায় কেউ কেউ ইচ্ছে করে নামাজ, ইফতার ও সেহরির সময় লোডশেডিং করে। এ রকম ঘটনায় কোথাও হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন, ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা কুড়িল ফ্লাইওভার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আর পাওয়ার পয়েন্টের সাহায্যে বিষয়টি তুলে ধরেন প্রকৌশলী ড. মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংদস সদস্য একেএম রহমতউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বালু নদীর ওপর নির্মিত বালু সেতুটি উদ্বোধন করেন। কুড়িল ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পরই ফ্লাইওভার দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।
৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কুড়িল ফ্লাইওভারটি ২০১০ সালের ২ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ৩০৬ কোটি টাকা প্রকল্পব্যয় ধরা হলেও ৩ কোটি টাকা সরকারের সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ব্যয় ১৬৯ কোটি টাকা, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় ৭৫ কোটি টাকা, ইউটিলিটি রিলোকেশন বাবদ ব্যয় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য মোট ১২ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রেলওয়ের ১০ দশমিক ১০ একর ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৭২ একর।
ফ্লাইওভারটির উচ্চতা ৪৭ দশমিক ৫৭ ফুট, দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার, প্রস্থ ৩০ দশমিক ১৮ ফুট। স্প্যান সংখ্যা ৬৫টি, পিসি গাডার সংখ্যা ১০১টি, পাইল ২৯৪টি, পাইল ক্যাপ ৬৮টি এবং পিয়ার ৬৯টি। ১ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে।
চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও বাংলাদেশের প্রজেক্ট বিল্ডার্স যৌথভাবে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে। রাজধানীকে যানজটের কবল থেকে মুক্ত রাখতে প্রায় ৩৯ বিঘা জমির ওপর এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়েছে।
