কক্সবাজারে অধিকাংশ হোটেলের বুকিং বাতিল, মালিকদের উদ্বেগ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০২
ঈদের ছুটির পর ১২ ও ১৩ আগস্ট দেশব্যাপী জামায়াতে ইসলামীর হরতাল আহবানের কারণে দেশের পর্যটন ব্যবসায় গুরুতর ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়ানোর জন্য আগাম হোটেল ‘বুকিং’ করলেও আকস্মিক হরতাল ডাকায় কয়েক হাজার পর্যটক ইতিমধ্যে তাদের ‘বুকিং’ বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের পরে কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তাই রমজানের মধ্যেই হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসসমূহ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন সাজে সাজতে শুরু করে। পর্যটকরা সাধারণত আসার আগেই হোটেল ‘বুক’ করে রাখেন। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। কিন্তু পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখনই জামায়াত হরতাল আহবান করে। এ কারণে ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজের অধিকাংশ ‘বুকিং’ বাতিল হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়বেন হোটেল মালিকরা। স্থানীয় কয়েকজন হোটেল মালিক ইত্তেফাক’কে জানান, ঈদের পর ১০থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সকল পাঁচ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে কটেজগুলোর ৮০ ভাগ কক্ষই আগাম ‘বুকিং’ করা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করায় দলটি ঈদের দুই দিন পর ১২ ও ১৩ আগস্ট হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকরা কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে আগাম ‘বুকিং’ বাতিল করে টাকা ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। শহরের কলাতলীর সী-স্টার কটেজের স্বত্বাধিকারী মোস্তাক আহমদ জানিয়েছেন, তার হোটেলের সব কক্ষই ঈদের পর দিন থেকে ৪ দিনের জন্য অগ্রিম ‘বুকিং’ করা ছিল। কিন্তু হরতাল ঘোষণার পর সবগুলোই বাতিল হয়ে গেছে। তারকা হোটেল সী-গালের প্রধান নির্বাহী ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ঈদের পর দিন থেকে টানা ১০ দিন পর্যন্ত তাদের ১৭৯টি কক্ষের ৮০ ভাগই আগাম বুকিং হয়েছিল। গতকাল পর্যন্ত অনেকেই তাদের ‘বুকিং’ বাতিল করেছেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার বলেন, এমনিতেই গত দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারিয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ঈদকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হঠাত্ করেই হরতাল ঘোষণার কারণে ব্যবসায়ীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, ‘এ হরতাল আমাদের বাড়া ভাতে ছাই দেয়ার মত।’ উল্লেখ্য, কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা ঈদের পরে অন্তত ১৫ দিন পর্যন্ত হরতাল না ডাকতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। ‘ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার’-টোয়াক বাংলাদেশ সভাপতি এস এম কিবরিয়া খান বলেন, ‘এই হরতালের কারণে এ অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল। সামর্থ্যবানরা অবকাশ কাটাতে এখন দেশের বাইরে চলে যাবে।’