শিক্ষা নিষিদ্ধ পল্লীর অন্ধকার জগতেও যে আলো ছড়াতে পারে সেটি আরো একবার প্রমাণ করেছেন ভারতীয় কিশোরী শ্বেতা কাত্তি। মুম্বাইয়ের একটি পতিতালয়ে জন্ম হলেও শিক্ষার অদম্য ইচ্ছা তাকে আজ নিয়ে গেছে সাফল্যের মণিকোঠায়। দারিদ্র্য ও যৌন নিগ্রহের মধ্যে বেড়ে ওঠা মুম্বাই এই কিশোরী যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পেয়ে জীবনের সব বাধা পেছনে ঠেলে দিয়েছেন। খবর এনডিটিভি’র।
শ্বেতা কাত্তি (১৮) বৃত্তি পেয়ে নিউইয়র্কের বার্ড কলেজে মনোবিজ্ঞান পড়তে গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লী ছেড়েছেন। পিছনে ফেলে গেছেন তার জীবনের একটি কালো অধ্যায়। পড়াশুনা শেষে তিনি ভারতে ফিরে তার মত নিগ্রহের শিকার অন্য মেয়েদের সাহায্য করতে চান। শ্বেতা বলেন, শৈশব থেকেই আমার এই স্বপ্নটা ছিল। তবে ভাবিনি এটা সত্যি হবে। নিউজউইকের চলতি বছরের ‘ইয়ং ওমেন টু ওয়াচ’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী শ্বেতা। একই তালিকায় আছেন তালেবানের গুলিতে আহত পাকিস্তানি স্কুল বালিকা ও আন্দোলনকারী মালালা ইউসুফজাই। আমি যেখানে বেড়ে উঠেছি, সেখানে আপনারা প্রতিদিন দেখতে পাবেন কেউ একজন কোন নারীকে প্রহার করছে। যেকোন সময় পুলিশ হানা দিচ্ছে এবং নারীরা পতিতাবৃত্তি করছে। তারা কেউ সুখে নেই, বলেন শ্বেতা। তিনি বলেন, খদ্দেররা আমার সঙ্গে রাত কাটাতে চায়। এটা ছিল আমার জন্য খুবই বিব্রতকর। আমার বাবাও আমাকে নির্যাতন করেছে। অন্যান্য লোকও নির্যাতন করেছে। তবে আমার মা সবসময় আমার পাশে থেকেছেন। মা বলতেন, তুমিই সেরা, তুমিই কিছু করতে পারবে। কাত্তি নিজেকে দরিদ্র ও নিম্নবর্ণের মেয়ে হিসেবে উল্লেখ করেন। আর এ কারণে তাকে স্কুলেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।
