বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
আজ ২৬ রমজান। রসূল (স.) মহিমান্বিত রজনী বা লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বেজোড় রাতের উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি প্রসিদ্ধ। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ পৃথিবীর কিছু দেশের মুসলমানদের বৃহত্তর অংশ সাতাশের রাত লাইলাতুল ক্বদর হিসেবে বিশ্বাস করে থাকেন। অনেক মুহাদ্দিস মুফাসি্সর মুফতীও সাতাশের রাতের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু রসূলের জামানায় ২১ ও ২৩ শে রাতে লাইলাতুল ক্বদর সংঘঠিত হয়েছে বলে বুখারী ও মুসলিম শরীফের সহীহ হাদিসে সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। আমরা জানি রসূল (স.)-এর জামানায় নারীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জু’মআ ও ঈদের নামাজে হাজির হতেন। এমনকি রমজানের শেষ দশদিন মসজিদে তাঁবু স্থাপন করে ই’তেকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল ক্বদর তালাশও করতেন। রসূল (স.) বলেছেন, তোমাদের নারীরা যদি মসজিদে (নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগীর জন্য) যেতে চায় তাহলে তোমরা নিষেধ করো না। তবে তাদের ঘরই উত্তম। কেননা ঘরই তাদের জন্য বেশি পর্দা রক্ষাকারী। এখানে তাদের একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা আসবে বেশি। তাছাড়া আজকের রাতে আমাদের আহাল-পরিবার-পরিজন সকলেরই উচিত আল্লাহর ইবাদতে শামিল হওয়া। কেননা লাইলাতুল ক্বদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এবং প্রত্যেক ক্বদরপ্রাপ্ত ব্যক্তি সদ্যপ্রসূত শিশুর মত নিষ্পাপরূপে পরিগণিত হন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহতায়ালা ‘‘ক্বদর” নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ‘‘নিশ্চয় আমি এটি (আল কুরআন) নাজিল করেছি এক মর্যাদাপূর্ণ রাতে। তুমি কি জানো সেই মর্যাদাপূর্ণ রাতটি কি? এই মহিমান্বিত রজনীটি হাজার মাস হতেও উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ অর্থাত্ জিব্রাইল (আ.) তাদের মালিকের সব ধরনের আদেশ নিয়ে (জমীনে) অবতরণ করেন। আর (তারা) শান্তি, (বর্ষণ করতে থাকেন) যা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সুতরাং প্রতীয়মান হলো, ক্বদরের রাত এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, এ রাতে আল কুরআন নাজিল হয়েছে ও হাজার মাস অর্থাত্ ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সওয়াব রয়েছে। কা’ব (রা.) বলেন, লাইলাতুল ক্বদরে যে ব্যক্তি তিনবার ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে প্রথমবার বলার জন্য আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন। দ্বিতীয়বারের জন্য তিনি তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন এবং তৃতীয়বারের জন্য তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (তাফসীর ইবনে কাসীর ৪র্থ খণ্ড-৫৩৬ পৃঃ, তাফসীরে কাবীর, ৮ম খণ্ড-৪৪৬ পৃঃ)। তবে পিতা-মাতার ও বান্দার হক্ব লঙ্ঘন হয়ে থাকলে অবশ্যই ঐসব বান্দা ও পিতা-মাতার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আর অধিক মাত্রায় তওবা এস্তেগফার করতে হবে। সুতরাং আজকের রাতে উক্ত দু’আগুলো অধিকমাত্রায় পড়া উচিত। সাথে সাথে অন্য সকল ইবাদত-বন্দেগীতে সারারাত জাগরণের মাধ্যমে লাইলাতুল ক্বদরপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান বান্দাদের দলভুক্ত হওয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা কর্তব্য। এই মর্যাদাপূর্ণ রজনীতে আল্লাহতা’য়ালা আমাদের জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে নিষ্পাপ হিসাবে পূত-পবিত্র জীবন দান করুন, আমীন। e-mail : [email protected]