এইচএসসিতে সাফল্য নিয়েও স্বস্তিতে নেই শিক্ষার্থীরা। এখন তাদের মধ্যে উদ্বেগ কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে। একই ধরনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল কলেজের মতো এবারও ক্লাস্টার বা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে না। ফলে একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৩৩টি।
এবার এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি বিএম (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) পরীক্ষায় সারাদেশে পাস করেছে সাত লাখ ৪৪ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ হাজার ১৯৭ জন। স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে পাস করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি। দেশের ৩৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার আসন আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার, মেডিক্যাল কলেজে প্রায় আড়াই হাজার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫শ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার আসন আছে।
অন্যদিকে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। সরকার অনুমোদিত ৭১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থীরা ততটা আগ্রহী নয়। এছাড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিস্টার ফি প্রতিবছরও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারছে না।
তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লাখের বেশি আসন আছে। ইতিমধ্যে পাস করা শিক্ষার্থীদের টানতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রচার করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত কোর্স পড়াচ্ছে। এ বিষয়ে প্রকৃত কোন তথ্য পাচ্ছে না তারা। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতারণার শিকার না হন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টরা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
গন্তব্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে না পারা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে পড়তে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে। সেশনজট থাকায় চার বছরের কোর্স শেষ করতে সময় লেগে যায় ৬ বছরের বেশি। ফলে সহসা কোন শিক্ষার্থীই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনস্থ পরীক্ষায় অংশ নিতে চায় না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার অনার্স কলেজের সংখ্যা প্রায় ৫শ’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে আসন রয়েছে তিন লাখের বেশি। স্নাতকেও (পাস কোর্স) প্রায় সমসংখ্যক আসন রয়েছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে একাধিক অভিভাবক এ প্রতিবেদককে বলেছেন, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্যও সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
