তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ইস্যু নিয়ে বিরোধী দল কঠোর আন্দোলন সংগ্রামে যাওয়ার হুমকি দিলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসন থেকে ১৮ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। তবে এখানে জোট কিংবা মহাজোটে চলছে এলোমেলা অবস্থা। বিএনপিতে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। দলের মধ্যে নেতায় নেতায় কোন্দল আর দলীয় আধিপত্য নিয়ে চলছে জেলা বিএনপি। এর মধ্যেও ইফতারকে উপলক্ষ্য করে জেলার পাঁচটি আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছে। নিজ নিজ গরজে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগেও চরম বিশৃঙ্খলা। নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস বাকী থাকলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নেই বললেই চলে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না প্রায় এক যুগ হলো। কমিটির আহ্বায়ক সাবেক এমপি এসএম আকরাম দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি তার এলাকায় নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে কাজ করে চলেছেন বলে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের একটি অংশ বামপন্থী দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সিপিবি এবার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিবে। রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা কিছুটা তত্পর। অন্য তিন আসনে তত্পরতা নেই বললেই চলে। তবে সদর-বন্দর আসনে জাতীয় পার্ির্টর প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম নাসিম ওসমান অনেক আগেই নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জেলার ৫টি আসন থেকেই মহাজোট প্রার্থীরা বিপুল বিজয় লাভ করে।
নারায়ণগঞ্জ-১(রুপগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া, আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ক্রীড়া সংগঠক গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে রূপগঞ্জ আসনে কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের গ্রহণযোগ্যতাই বেশী। অপর দিকে দিপু ভুঁইয়া দলীয় নেতাকর্মীদের অর্থের বিনিময়ে তার পক্ষে টানতে চাইছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এএম বদরুজ্জামান খান খসরু, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা এএফএম ইকবাল, কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও আমেরিকা সেন্ট্রাল বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু মনোনয়ন যুদ্ধে নামতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুই। এখনো অন্য কেউ মাঠে নামেনি। আড়াইহাজারে বিএনপির দুই ভাইয়ের কোন্দল নিরসনের চেষ্টা করছেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী সংস্কারবাদী নেতা রেজাউল করিম, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতিষ্ঠা সদস্য অলিউর রহমান আপেল। আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সাবেক সংসদ সদস্য আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান কালাম ও আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি মনির হোসেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্ল¬া-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম, বিএনপির বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন আহম্মদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক শিল্পপতি সফর আলী ভুঁইয়া ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহামুদ বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী, সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও শ্রমিকলীগের কাউসার আহম্মেদ পলাশ।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. তৈমুর আলম খন্দকার এবং সাবেক সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম। অপরদিকে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এলাকায় গুজব, দল থেকে পদত্যাগ করা সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আকরামও সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান। তিনি মহাজোট থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মহাজোট না ভাঙ্গলে তিনিই হতে পারেন মহাজোট প্রার্থী। এছাড়া এস এম আকরাম নাগরিক ঐক্যের পক্ষে কাজ করছেন। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে আন্দোলন-সংগ্রামে বিগত সাড়ে চার বছর তৈমুর আলম খন্দকারই মাঠে ছিলেন।
