ঈদুল ফিতর এখন বহু উপমায় সজ্জিত। বলা যায়, বাঙালির উত্সবের তালিকায় ঈদুল ফিতর ক্রমশ সর্বজনীন হয়ে উঠছে। শুধু ধর্মীয় উত্সব হিসেবে নয়, ঈদুল ফিতর হয়ে উঠেছে আমাদের ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। সংযমের মাস শেষে ঈদ আসে আনন্দ, সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে। ঈদ তাই আমাদের সারা বছরের ক্লান্তি, গ্লানি, হতাশাসহ যাবতীয় নৈরাশ্যের ওপর আনন্দের আলপনা এঁকে দেয়। পাশাপাশি, রমজান মাসের দিনগুলো ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ার সঙ্গে রাজনীতির ময়দানেও তাত্পর্যময় হয়ে ওঠে। ইফতার পার্টি তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে সৃষ্ট ফাটলের ওপর সাঁকোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, সম্ভাবনা সৃষ্টি করে যেকোনো সমস্যার জটমুক্তির, যার সমাধান সম্ভব হতে পারে আলোচনার টেবিলেই।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নানাভাবে আমাদের মনে গভীর উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় নির্বাচনের বিলম্ব নেই খুব বেশি। বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে আমাদের দেশ হয়ে উঠেছে অঘটনঘটনপটিয়সী। এবার তার আলামত সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। আর রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্রই। স্বভাবতই আমরা আতঙ্কিত রাজনীতির আকাশে ঘনায়মান ঘনকৃষ্ণ মেঘ দেখে।
অপার সম্ভবনা রয়েছে এদেশের। শুধুমাত্র সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে আজ দিকে দিকে এক অরাজকতা, হতাশার ঘূর্ণিবাত। আলাদীনের চেরাগের দরকার নেই, আমাদের দৈন্য মানসিকতার পরিবর্তন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই এই দেশের অকল্পনীয় উন্নতি ঘটাতে পারে। উত্সবের ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহিষ্ণুতা আমাদের কানে কানে সেই অমরাবতীর কথা শোনায়।
ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা হিসেবে ইত্তেফাক সব সময় শুধু যুগের সঙ্গে শুধু তাল মেলায়নি, পথপ্রদর্শকও হয়েছে নানাভাবে। এবারের ঈদসংখ্যাও আমরা চেষ্টা করেছি বৈচিত্র্যময় সাহিত্যসম্ভারে সাজাতে, যা আমাদের সব শ্রেণীর পাঠকদের মননশীলতাকে ঋদ্ধ করবে। ‘সাহিত্য যে কেবলমাত্র ব্যক্তিগত আমোদ বা শিক্ষাসাধক নহে, তাহা যে সমস্ত জাতির জাতীয় বন্ধন দৃঢ়তর করে।... বাংলা সাহিত্য যে বাঙালি জাতির ভূত-ভবিষ্যেক এক সজীব সচেতন নাড়ি-বন্ধনে বাঁধিয়া দিয়া তাহাকে বৃহত্তর এবং ঘনিষ্ঠতর করিয়া তুলিবে...’—এমন কথা বলেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।
আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি নিদারুণ। স্মার্ট ফোন, ফেসবুক, ব্লগ মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের যেন সীমাহীন ব্যস্ততা—তা সবঅর্থেই নেতিবাচক নয় নিশ্চয়ই। আমরা মনে করি—এবারের ঈদসংখ্যার বিচিত্র বিষয়ের সম্ভার সব ধরনের পাঠকের ব্যস্ত সময় কিনে নেবে এর রচনার গুণেই। আমরা সেই চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখিনি।
সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
