জুলাইয়ে রফতানি বেড়েছে ২৪ শতাংশ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২০:৪১
চলতি অর্থবছরের ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ২৪ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত মাসে মোট ৩০২ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই মাসে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি এবং বাজার বহুমুখিকরণের ফলে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডলারের দাম পড়তির দিকে থাকলেও গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জুলাই থেকে জুন সময়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ। রফতানিকারকরা বলছেন, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্তিরতা আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি ছিল, ডলারের দামও ছিল পড়তির দিকে¬। বিদায়ী অর্থবছর জুড়ে ডলারের গড় মুল্য ৮০ টাকার নিচে অবস্থান করছিলো। এরকম পরিস্থিতিতে রফতানির পরিমান ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার আশংঙ্কা করা হলেও বড় ধরনের আঘাত আসেনি। চলতি বছরের প্রথম মাসে রফতানি পরিমান বেশ ভাল থাকার ধারাকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। এ বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান সুভাশীষ বসু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভাবনা অনেক। এতে দেশের নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে রফতানির গতি দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে রফতানি সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে পণ্যের বহুমুখিকরণ করতে ইপিবি বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে এখন জাপান, রাশিয়াতে আমাদের দেশের পণ্য রফতানি বাড়ছে। এছাড়া চীন ও ভারতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রফতানি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রচলিত পণ্যগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্য যেমন, হালকা প্রকৌশল পণ্য, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ রফতানিও বাড়ছে। দেশের অভ্যন্তরের নানা প্রতিকূলতার পরও রফতানি বাড়ছে। রফতানির ইতিবাচক ধারার বিষয়ে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা ও দেশের রাজনৈতিক খারাপ অবস্থার মধ্যেও রফতানি বাড়ছে এটা খুবই ভাল লক্ষণ। তবে গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকট, উচ্চ সুদ হার, অবকাঠামো সমস্যাসহ নানামুখী সমস্যাসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রফতানিকারকরা সঙ্কীত। এজন্য সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।