জামালপুুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রায় অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফাটল ধরেছে। এ কারণে ১৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ভবন ধসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধুর পাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় ভবনটির ছাদের প্লাস্টার খসে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সঙ্গে দুটি শ্রেণিকক্ষের ছাদেরও ব্যাপক ফাটল ধরেছে। শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই দুটি শ্রেণিকক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। পরিত্যক্ত ঘোষনার পর নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একই ভবনের পাশের অফিসকক্ষটিরও একই অবস্থা। শ্রেণিকক্ষ দুটি পরিত্যক্ত হবার ফলে আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মধ্যে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৯৫ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওই প্রশাসনিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ১৮ বছরের মাথায় ওই ভবনটি ফাটল ধরায় স্থানীয় অনেকেই ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বকশীগঞ্জ সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট ভবনে প্রায় ১০ বছর আগেই ফাটল ধরেছে। এখনও ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনটিতে ক্লাস করছে। সাধুর পাড়া ইউনিয়নের ঠাণ্ডার বন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ফাটল ধরেছে। অবিলম্বে ওই বিদ্যালয়টি সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটির ছাদে ফাটলের পরও ওই বিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বমুখি সম্প্রাসারণের ফলে বর্তমানে আরো আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে,৭ টি ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক সরকারি ও রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও সাধুর পাড়ার ধাতুয়া কান্দা কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনেও ফাটল ধরেছে , বাট্রাজোর কে আর আই ফাজিল মাদ্রাসা ভবনটির ছাদ ফাটলে জর্জরিত। যে কোনো সময় সেখানেও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সরকার আবদুর রাজ্জাক,
বকশীগঞ্জ,জামালপুর
