জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তে ঈদ বাজার

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৭
শেষ মুহূর্তে জেলায় জেলায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার। সকাল থেকে গভীর রাতঅবধি চলছে বেচাকেনা। অভিজাত বিপণি বিতান থেকে ফুটপাত পর্যন্ত সবখানেই কেনাকাটার ধুম। প্রতিটি দোকানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো রিপোর্ট। ভোলা ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ঈদের বাজার ততই যেন জমে উঠতে শুরু করছে। শহরের কে জাহান মার্কেট, জিয়া সুপার মার্কেট, জাহাঙ্গির প্লাজা, সেন প্লাজা, আমেনা প্লাজা, রানী প্লাজা ও চৌধুরী প্লাজার মত শপিংমলগুলোতে বাহারি রঙ্গের দেশি-বিদেশি শাড়ি, সেলোয়ার, কামিজ, শার্ট, প্যান্ট, জুতা ও কসমেটিক্সের দোকানগুলোকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। জুতার দোকানেও দেখা যাচ্ছে দামি জুতা। মধ্যবিত্তের জুতাতো আছেই। সকাল থেকে শুরু করে রাত এগারটা-বারোটা পর্যন্ত কেনাকাটা চলছে। মহিলা আর যুবতিদের ভিড়ই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলা ্কুলমোড়ে গিফটকর্ণার প্লাসই শহরের ধনাঢ্য পরিবারের কেনাকাটার কেন্দ্রবিন্দু। শাড়ি, পাঞ্জাবি, স্যান্ডেল, জুতা, থ্রি-পিস, কসমেটিক্স কিংবা বাচ্চাদের দামি খেলনা কি নেই সেখানে। এখানকার সব পণ্যই কেবল উচ্চবিত্তের জন্যে। চকবাজারের কাপড়ের দোকানগুলেতে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ভিড় বেশি। সেখানকার দোকানিরা জানান, সাম্প্রতিক প্লাবনে উপকূলীয় এলাকার মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেচা-বিক্রি মোটামুটিভাবে মন্দ নয়। কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) এখানকার সবগুলো বিপণি বিতানে কেনা-বেচার উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। বেচা-কেনা চলছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। দোকানদাররা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ভিন্ন মাত্রায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা এবং বিতানগুলোতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করেছে। জানা গেছে এবারে জামা-কাপড়, জুতা এবং কসমেটিক্সসহ সব পণ্যের দাম গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বৃদ্ধি পেলেও থেমে নেই কেনা-বেচা। সাধ্য অনুযায়ী সবাই ঈদের পণ্যসামগ্রী ক্রয় করছে। বিভিন্ন বিতান ঘুরে দেখা গেছে শিশু-কিশোরদের জামা-কাপড়, জুতা এবং প্রসাধনী সামগ্রী বেশি বিক্রি হচ্ছে। হোমনা (কুমিল্লা) হোমনায় সকাল থেকেই মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে। ক্রেতাদের ভিড়ে অধিকাংশ মার্কেটে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় মহিলা ও তরুণীর সংখ্যা বেশি। তবে প্রতিটি জিনিসের দামই বেশি বলে নিম্নআয়ের লোকদের পোশাক কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে ক্রেতারা জানান। উপজেলার ফয়সাল প্লাজা, আল-রশিদ প্লাজা, সোনার বাংলা মার্কেট, গার্লস স্কুল মার্কেট, আবুল হাশেম মার্কেট, সুন্দর আলী মার্কেটসহ ছোট বড় ২০টি মার্কেটে এবং ফুটপাতগুলোতে দিন-রাত কেনাকাটা চলছে। রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) উপজেলার হাট-বাজারগুলো জমে উঠেছে। পৌর শহর, কলেজ হাট, নেকমরদ বাজার, কাতিহার হাট ও মহারাজা হাটে ঈদ উপলক্ষে কেনা-কাটা করতে গত শুক্রবার থেকে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলার প্রধান বাজার বা ব্যবসা কেন্দ্র পৌর শহরেই মূলত বেশি ভিড় করছেন ক্রেতারা। স্থানীয় ছাড়াও অন্যান্য উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকেও এসব দোকানে ছুটে আসছেন ক্রেতারা। বটিয়াঘাটা (খুলনা) ঈদের কেনাকাটায় বাজারের দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দোকানে পুরুষ ও মহিলাদের ভিড় লক্ষণীয়। তারা বিভিন্ন রকমের প্রসাধনী কেনাকাটায় ব্যস্ত। চপলা এন্টারপ্রাইজের মালিক নিহার রঞ্জন জানান, অন্য বছরের তুলনায় বাজারে ক্রেতাদের সংখ্যা কম থাকলেও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদ যত এগিয়ে আসবে বিক্রয় ততই বৃদ্ধি পাবে। হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) উপজেলা সদরে শেষ মুহূূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বিপণি বিতান ও রেডিমেড গার্মেন্টসগুলোতে ক্রেতাদের রাতভর চলছে কেনাকাটা। ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে দোকানিরা নতুন শাড়ি, থ্রিপিস,পাঞ্জাবী, জুতা ও বাচ্চাদের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন। মার্কেটে এবার পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার ভিড় বেশি। অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষ ফুটপাতে ঈদের পোশাক কিনে তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। মহেশপুর (ঝিনাইদহ) এখন ঈদের বাজারে প্রসাধনীর দোকানে তরুণীদের বেশি ভিড়। নতুন সাজে সাজতে জামা, জুতা, শাড়ি, কাপড় সবই প্রায় হয়েছে। পোশাকের সাথে মিল রেখে এখন প্রয়োজন সাজার জিনিস। কানের দুল, চুিড়, হার, আংটি, লিপস্টিক, নেইল পালিশ, সবই হওয়া চাই পোশাকের আদলে। নতুন থ্রিপিস,শাড়ির সাথে মিল করে তরুণীরা কিনছেন চুড়ি, কানের দুল, লিপস্টিক, নেইল পলিশ, আইস্যাডো, ব্লাশন, মালা, চুলের ক্লিপ, ব্রেসলেট প্রভৃতি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন ফেস পাউডার, আই পেনসিল, আইলাইনার, বডিস্প্রে, পারফিউম, শ্যাম্পু, সাবান সবই বেচাকেনার ধুম এখন বাজারে। মহেশপুর শহরের হাইস্কুল মার্কেট, মোজাম্মেল টাওয়ার, পৌর মার্কেটসহ মেইন বাজারে তরুণীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) কাঠালিয়ায় ঈদের কেনাকাটাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উত্সবের আমেজ। পরিবার-পরিজনের জন্য ঈদের নতুন জামা-কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিকস কিনতে ঈদের বাজারে ছুটছেন সব শ্রেণী পেশার মানুষ। সাধ আর সাধ্যের সঙ্গে মিল রেখে আপনজনদের জন্য কেনাকাটা করছেন এসব মানুষ। তবে মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্পআয়ের মানুষেরা তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। কাঠালিয়ায় উচ্চবিত্তের জন্য যেমন রয়েছে অত্যাধুনিক শপিং মল তেমনি নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটার জন্য রয়েছে ছোট ছোট দোকান এবং ফুটপাতের দোকান। এবারে ঈদ উপলক্ষে বাজারে নতুন এসেছে ঝিলিক, লেহেঙ্গা, জিপসী, লেহেঙ্গা শাড়ি এবং স্যান্ডেলের মধ্যে এসেছে প্রেম পাগলামী, পোড়ামল, ঝিলিক, মনপুরা, রূপসী বাংলা, মালেকা সুন্দরীসহ হরেক রকমের ও ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল। চাটখিল (নোয়াখালী) নোয়াখালী জেলার চাটখিলে ঈদ বাজার জমে উঠেছে। রমজানের শুরু থেকেই পৌর বাজারসহ অন্যান্য বাজারের অধিকাংশ বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ক্রেতাদের অধিকাংশই মহিলা। এখানকার অধিকাংশ লোক প্রবাসে থাকায় তাদের স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা নিজ নিজ পছন্দের জামা-কাপড় কিনছে। শাড়ি ও জামা-কাপড় ছাড়াও পোশাক, জুতা, সেন্ডেল, থ্রিপিস এবং প্রসাধনী দোকানে ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়ে থাকে। পৌরসভার আজিজ সুপার মার্কেট, দুবাই মার্কেট, নিউমার্কেট, জোনাকি সুপার মার্কেটসহ অন্যান্য হাটবাজার ও মার্কেটে সুসজ্জিত আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে জেনারেটর। সন্ধ্যার পর মার্কেটগুলোকে বিভিন্ন রূপে দেখা যায়। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান- এবার ঈদের বাজারে ভারত, থাইল্যান্ড এবং চীনের তৈরি পোশাক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। হাটবাজারে ক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য হাটবাজারগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। থানা পুলিশের টহলসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।