জলদস্যু আতঙ্কে ঘরমুখো মানুষের ব্রহ্মপুত্রপাড়ি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫০
ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদে জলদস্যুদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাহাদুরাবাদঘাট থেকে শুরু করে বালাসী ও তিস্তামুখঘাটের প্রায় ৩২ কিলোমিটার নদীপথের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনে-দুপুরেই যাত্রীবাহী নৌকায় হানা দিয়ে সবকিছু লুটে নিচ্ছে জলদস্যুরা। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে জলদস্যুদের আতঙ্ক নিয়ে নদী পাড়ি দিতে হচ্ছে। এ নৌরুটে পুলিশের নজরদারিও দমাতে পারছে না এসব জলদস্যুকে। মাঝে-মধ্যে দু’একজন জলদস্যু গ্রেফতার হলেও এদের গডফাদাররা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্রহ্মপুত্র নদীজুড়ে গাইবান্ধা সদর থানার মোল্লার চরের রেজাউল পাগলা বাহিনী, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার জিগাতলা চরের ইদ্রিস বাহিনী, মাসুদ বাহিনী ও কালাম বাহিনী, ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুরের খোকাবাহিনী, খোলাবাড়ির করিমবাহিনীসহ ৬-৮টি জলদস্যু বাহিনীর এলাকাভিত্তিক রাজত্ব চলে সারা বছরই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জলদস্যু জানান, মোল্লার চরের রেজাউল পাগলা শুধু দস্যুতাই করে না, তিনি নিজেই বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর। একেকটি বাহিনীতে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য রয়েছে। এদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিকসহ বিভিন্ন অস্ত্র। এ প্রসঙ্গে ফুলছড়ি থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, বালাসী ও ফুলছড়ি পয়েন্টে থেকে রাতে ও দিনে পুলিশী টহল দেয়া হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার জন্য। দস্যুদের অবস্থান দুর্গম এলাকায়, আমাদের আধুনিক ও দ্রুতগামী জলযান না থাকায় জলদস্যুদের ধরা সম্ভব হয়ে ওঠে না।