সিএনএন
স্নায়ু যুদ্ধকালীন পরমাণু পরীক্ষার রেডিওঅ্যাকটিভ কার্বন পাওয়া গেছে সমুদ্রের গভীরতম তলদেশে। প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে বাস করা ক্রাসটেসিয়ানের পেশীর টিস্যুতে উচ্চ মাত্রার রেডিওঅ্যাকটিভ কার্বন পাওয়া গেছে।
গত এপ্রিলে প্রকাশিত জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারসের একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে একথা জানা গেছে। ৫০ এবং ৬০ এর দশকে যে সকল পরমাণু বোমার পরীক্ষা করা হয়েছিল তাদের কার্বন কয়েক মাইল গভীর সমুদ্রে পাওয়া যাচ্ছে যেখানে এসকল ক্রাসটেসিয়ান বাস করে। মনুষ্যসৃষ্ট দূষণ কত তাড়াতাড়ি সমুদ্রের প্রাণীর খাদ্যচক্রে প্রভাব ফেলতে পারে তা এই গবেষণায় উঠে এসেছে। সমুদ্রে পরমাণু পরীক্ষার রেডিওঅ্যাকটিভ কার্বন সেখান থেকে কয়েক মাইল গভীর সমুদ্রেও পৌঁছে গেছে। গবেষণাপত্রটির লেখক উইডং সান বলেন, আমরা সমুদ্রে এত উচ্চমাত্রার কার্বন আশা করি নাই। স্নায়ু যুদ্ধকালে ঘন ঘন পরমাণু পরীক্ষার কারণে বায়ুমন্ডলে রেডিওঅ্যাকটিভ কার্বন দ্বিগুন হয়ে গিয়েছিল। বোমার নিঃসৃত নিউট্রন বাতাসের নাইট্রোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে রেডিওঅ্যাকটিভ কার্বন অথবা কার্বন-১৪ তৈরি করে। বোমার কার্বন বায়ুমন্ডল থেকে ধীরে ধীরে সমুদ্রে মিশে যায়।
হিরনডেলিয়া গিগাস একধরনের ক্রাসটেসিয়ান যা মারিয়ানা সমুদ্রখাদে পাওয়া যায়। এছাড়া পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তিনটি সমুদ্রখাদ থেকে ক্রাটেসিয়ান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এরা খুব ঠান্ডা, উচ্চ চাপ, অন্ধকার ও খাদ্যাভাবের মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। এরা সাধারণত মৃতদেহ ভক্ষণ করে। এদের পেশীর টিস্যুতে কাবর্ন-১৪ পাওয়া গেছে। গভীর সমুদ্রে এত উঁচু মাত্রার কার্বন পাওয়ার কথা নয়। স্বাভাবিকভাবে এই কার্বন গভীর সমুদ্রে যেতে হাজার বছর লাগার কথা কিন্তু সমুদ্রের খাদ্যচক্রের কারণে তা অনেক আগেই গভীর সমুদ্রে চলে গেছে।
সমুদ্রখাদের এই ক্রাসটেসিয়ান অন্য ক্রাসটেসিয়ানের থেকে চারগুন বড় এবং দীর্ঘজীবী। বেশিদিন বাঁচার কারণে এদের শরীরে রেডিওঅ্যাকাটভ কার্বন জমতে পেরেছে। গবেষণাপত্রটির লেখক ওয়েডং সান বলেন, এতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, সমুদ্রের সবচেয়ে গভীর তলদেশেও আমাদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে। মানুষকে সাবধান হতে হবে যে, তাদের কর্মকাণ্ড পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করে।
