প্রাণভয়ে নোম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া দুই হাজার উপজাতি দেশে ফিরেছে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫২
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া প্রায় দুই হাজার উপজাতি গত রবিবার বিকালে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার উপজাতিদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলে তারা সেখান থেকে তাদের ভিটায় ফিরে আসে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী সকালে তাইন্দং-এর বগাপাড়া, সর্বস্বপাড়া, তালুকদার পাড়া ও বান্দরসিং-এ ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের বাড়ি-ঘর পরিদর্শন করেন। মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী তাইন্দং-এর বান্দরসিং এলাকা থেকে মো. কামাল হোসেন (৩২) নামে এক বাঙালি যুবককে অপহরণের জের ধরে গত শনিবার পার্শ্ববর্তী তিনটি পাহাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে নোম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেয় উপজাতিরা। এদিকে, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত অনিল কান্তি চাকমা বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ ও দেড়শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম জানান, গত শনিবার ঘটনার আকস্মিক ভয়াবহতায় আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় উপজাতিরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে গহীন জঙ্গলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। কিছু উপজাতি নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়। বাড়ি ফিরে আসা এসব উপজাতিদের মধ্যে যাদের পরিবার লুটপাট-ভাঙচুরের শিকার হয়েছে এমন প্রায় তিনশ পরিবারকে গতকাল রান্নার সামগ্রী ও ১০ কেজি করে আতব চাল দেয়া হয়েছে। পরিবার প্রতি দেয়া হয়েছে সাত হাজার টাকা করে। ৩৩টি পরিবারকে রবিবার ৩০ কেজি করে আতব চাউল ও ২ কেজি চিড়া, আধা কেজি গুড় দেয়া হয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণে ঢেউটিন দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জানান ইউএনও। তিনি বলেন, আক্রান্ত গ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ ও বিজিবির সংখ্যা বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাটিরাঙ্গার যামিনীপাড়া বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর কামরুল ইসলাম ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাহে আলম গতকাল বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ও খাদ্য-শস্য সামগ্রী দিয়ে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে, শনিবারের ঘটনা সম্পর্কে ইউপিডিএফের দেয়া তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বিজিবি।