এক নজরে দুই ডিসিসির নির্বাচন পরিস্থিতি
৯ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৪ মে, ২০১২ এক সপ্তাহ পর নির্বাচনের উপর তিনমাসের স্থগিতাদেশ দেয় আদালত তৃতীয় দফা স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়, চলতি বছরের ৬ মে শুনানি শেষ হয় ১৩ মে ২০১৩ হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে আইনি বাধা কাটে ২ জুন সীমানা জটিলতার কারণে প্রস্তুতি নিয়ে তফসিল ৭ঘোষণা
করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন
সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) নির্বাচন হচ্ছে না। তবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা যতটা না দায়ী তার থেকে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা এক্ষেত্রে বেশি দায়ী। বিশেষত পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের অপ্রত্যাশিত পরাজয় দুই ডিসিসি নির্বাচনে সরকারের সম্মতির ক্ষেত্রে অন্তরায় তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, আগেভাগে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়ভার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতে চাননি। তিনি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচন সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান। যদিও নির্বাচন অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অভিহিতকরণ সংক্রান্ত নথিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনুমোদন রয়েছে।
সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কর্মকর্তা ঢাকা জেলা প্রসাশক শেখ ইউসুফ হারুন গতরাতে ইত্তেফাককে জানান, ডিসিসির ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘিরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনেক আপত্তি জমা পড়েছে। সেসব আপত্তির শুনানিও প্রায় চূড়ান্ত। তিনি বলেন, চূড়ান্ত শুনানি শেষে খুব শিগগিরি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেন, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই তা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কবে নির্বাচন হবে।
দুই ডিসিসি নির্বাচনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ জানান, বিভক্ত ডিসিসির সীমানা পুনর্নির্ধারণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তারা কাজটি করছে; কিন্তু অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের কাছে সোমবার পর্যন্ত কোন তথ্য নেই। ঈদের পর আমরা দেখবো কে কোন ওয়ার্ডের ভোটার, তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিব বলে জানান সিইসি।
২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তর ও ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণ নামে দুই ভাগ হয় ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। ওই সময় ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল; কিন্তু এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিদায়ী নির্বাচন কমিশন তাতে অপারগতা প্রকাশ করায় আইন সংশোধন করে সময় ১৮০ দিন বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী ২৯ মের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। গত বছরের ৯ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন। ওই বছরের ২৪ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এক সপ্তাহের পর নির্বাচনে স্থগিতাদেশ চেয়ে হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা নির্ধারণ যথাযথভাবে না হওয়ার অভিযোগে রিট আবেদন করলে নির্বাচনের উপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ আরোপ করে হাইকোর্ট। গত বছরের ২৩ জুলাই নির্বাচনের স্থগিতাদেশের মেয়াদ তিন মাস বাড়ায় আদালত। একই বছরের ৮ আগস্ট দ্বিতীয়বার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয়বারের মতো ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় রুলের ওপর গত ৬ মে শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে গত ৮ তারিখে রায়ের দিন ধার্য করা হয়। গত ১৩ মে সেই রিট খারিজ করে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে আইনি বাধা কাটে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন; কিন্তু গত ২ জুন কমিশনের বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন করে অর্ন্তভুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন নিয়ে জটিলতা ধরা পড়ে। সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত থাকে নির্বাচন কমিশন।
