মিসরে দীর্ঘ কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭ যুবক

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৮
মিসরে দীর্ঘ কারাবাসের পর দেশে ফিরেছেন ১৭ বাংলাদেশি যুবক। বেশি বেতনের আশায় মিসর থেকে অবৈধভাবে লিবিয়া যাওয়ার পথে মিসরের সীমান্ত রক্ষীদের হাতে ধরা পড়েন তারা। গত রবিবার গভীর রাতে তারা হযরত শাহজালাল (রা.) বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহায়তায় বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপ তাদের সিএসআর কর্মসূচির আওতায় ওই বাংলাদেশি শ্রমিকদেরে দেশে ফিরিয়ে আনেন। দেশে আসা শ্রমিকরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকার আল আমিন, যশোরের বাঘারপাড়ার গোলাম নবী, পাবনার লতিফ প্রামাণিক, ময়মনসিংহের নান্দাইলের আল আমিন, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের বাবুল হোসেন, গোপালগঞ্জের জামাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলার কুশনপুরের খোকন মিয়া, ঢাকার নবাবগঞ্জের রাজু আহমেদ, ঝিনাইদহের রবিউল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের তারাইনের রতন মিয়া, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শাহাবুদ্দিন, মাগুরার সবুজ হোসেন, মেহেরপুরের মো. আক্কাস আলী, ভোলার নূরে আলম, ময়মনসিংহের ত্রিশালের ওমর ফারুক, নোয়াখালীর রায়হান ও রংপুরের মিঠাপুকুরের বাসিন্দা শামসুল আলম। শ্রমিকরা জানান, ভাগ্য ফেরাতে তারা মিসরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু বেশি বেতনের আশায় সেখান থেকে তারা অবৈধভাবে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। কিন্তু লিবিয়া যাওয়ার আগেই মিসর সীমান্তে ধরা পড়ে যান তারা। এরপর অনেকদিন জেল খেটেছেন তারা। অনেকেই ৪ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত মিসরের কায়রো শহরের কানাতার খারিয়া জেলে আটক ছিলেন। তারা তাদের এ দুর্গতির জন্য দালাল চক্রকেই দায়ী করেন। শ্রমিকরা জানান, বন্দী থাকা অবস্থায় তারা পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেননি। অবশেষে অনেক চেষ্টার পর জেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আটকদের কয়েকজন তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাতে পেরেছেন। চলতি বছরের মে মাসে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে বিএমইটি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আটক থাকার খবর জানতে পারে। এরপর তাদের মুক্তির ব্যাপারে মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তারপর বিএমইটি তাদের মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকে। এ কাজে আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি হয় এমজিএইচ গ্রুপ। এমজিএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, শ্রমিকদের কেউ কেউ বিগত ১১ মাস যাবত্ মিসরে আটক ছিল। আমি কল্পনাই করতে পারছি না, এরা কিভাবে জীবন যাপন করছিল, যেখানে তারা জানে না তাদের পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আবার কোনদিন দেখা হবে কিনা। আমরা জোরালোভাবে বলতে পারি, এটা আমাদেরই দায়িত্ব এই সকল অসহায় মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া, সেটা যে কোনভাবেই হোক। তিনি জানান, গত বছর সিএসআর কর্মসূচির আওতায় এমজিএইচ গ্রুপ ২০ জন কর্মীকে তানজানিয়ার জেল থেকে অবমুক্ত করে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় দেশে ফেরত এনেছে। এ বছরের শুরুতে আরও একজন বাংলাদেশি নারী কর্মী তাসলিমা বেগমকে লেবানন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান এবং তুরস্ক থেকে বাংলাদেশি অসহায় পুরুষ ও মহিলা কর্মীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনার কাজে তার কোম্পানি সহযোগিতা করেছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিলের সহকারী পরিচালক জাহিদ আনোয়ার জানান, ফেরত আসা শ্রমিকদের আত্মীয়-স্বজনকে খবর দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।