আজ ২৭ রমজান। রোজাদার মুসলমানদের হূদয়ে কন্দরে রমজান বিদায় হওয়ার ধ্বনি—প্রতিধ্বনিত হওয়া শুরু হয়েছে। আজ থেকে সকল মসজিদে ঈমানদার রোজাদারগণ আরো বেশি অশ্রুসিক্ত নয়নে আবেগজড়িত কণ্ঠে পরওয়ার-দেগারের কাছে বিগত জীবনের ভুল-ভ্রান্তির জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং সারাজীবন কুরআনের আলোকে উদ্ভাসিত সহজ-সরল সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে জীবন পরিচালনা নিষ্কন্টক করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন। আমরা রমজানের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছেছি। আর মাত্র ২/৩ টি রোজা আমাদের মাঝে রয়েছে। আল্লাহতায়ালা কুরআনে বলেছেন, রোজা গণনার কয়েকটি দিন মাত্র। সে কারণে দেখতে না দেখতেই আমাদের মাঝ থেকে ছাব্বিশটি রোজা বিদায় হয়ে গেলো। এটা বিস্ময়কর ব্যাপার যে, রমজান মাস ঈমানদারদের কাছে খুবই হালকা অনুভূত হয় অর্থাত্ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আর অবিশ্বাসী ও রোজা পরিহারকারীদের জন্য এ মাসটি খুবই কষ্টসাধ্য ও দীর্ঘ হয়। তাদের কাছে এ মাসটি যেন শেষই হতে চায় না। প্রত্যেক বছরই রোজার শেষ প্রান্তে এসে মু’মিন হূদয়ে একটা হাহাকার সৃষ্টি হয় যে, আগামী বছর আবার এই রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান পাবো কি-না? জীবনের গোনাহ মাফ করাতে পারবো কি না? মনের গহীনে এই জবাবহীন এক অব্যক্ত বেদনাময় প্রশ্ন যেন বারবার ফিরে আসে। রসূল (স.) একদিন মসজিদে নববীর মেম্বর থেকে নামার সময় প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে বললেন, আমীন। দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রেখে বললেন আমীন। তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখে বললেন, আমীন। সাহাবীরা এর অর্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি (স.) বললেন, জিব্রাইল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান পেলো অথচ ইবাদত বন্দেগী করে জান্নাত হাসিল করতে পারলো না তার চেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি আর কেউ নেই। আমি রসূল (স.) সেখানে আমীন বলেছি। আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেলো অথচ তাদের সেবা শুশ্রুষা করে জান্নাত লাভ করতে পারলো না তার চেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি আর কেউ নেই। আমি রসূল (স.) সেখানে আমীন বলেছি। আর যে ব্যক্তি আমার নাম শুনে দরূদ পড়বে না তার চেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি আর কেউ নেই। আমি সে স্থানে আমীন বলেছি। মূলত: রমজান হলো গোনাহ মাফের মাস।
সুতরাং রমজানুল মোবারকের এই শেষ প্রান্তে বিশুদ্ধ তওবা করে সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবনকে পরিচালিত করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফিক দান করুন, আমীন।
e-mail : [email protected]
