নিবন্ধন বাতিলের রায় নিয়ে মন্তব্য

দুই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৮
জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মো. ইব্রাহিমকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত অবমাননার মামলা বিচারের এখতিয়ার সম্পন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চে তাদের সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার স্বত:প্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে রায় সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করায় তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত গত পহেলা আগস্ট হাইকোর্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধনকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেয়। এই রায় ঘোষণার পর জামায়াত ঈদের পর টানা দুই দিনের হরতালের কর্মসূচি দেয়। একইসঙ্গে একটি বিবৃতিও দেয়া হয় দলটির পক্ষ থেকে। রফিকুল ইসলাম খান কর্তৃক দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এ রায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা মনে করি এটা আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও সংবিধান পরিপন্থী। এ রায়ে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রকাশ ঘটেছে। এছাড়া পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিকে এসে হাইকোর্টের ছুটির ঠিক আগের দিন আদালত চলার সর্বশেষ মুহূর্তে এই মামলার রায় ঘোষণা একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মো. ইব্রাহিমের স্বাক্ষর করা এই বিবৃতি পরদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। গতকাল এরূপ মন্তব্য সম্বলিত বিবৃতির অংশ বিশেষ আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ রেজা সোবহান। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। আদালত বিষয়টা দেখতে পারেন। এ সময় অন্য মামলায় হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে উপস্থিত জামায়াতের নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলার কৌঁসুলি ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে কোনো আদেশ দেবেন না। আমরা সময় চাচ্ছি। জামায়াতের বিবৃতিতে যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি থাকে তবে তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এজন্য আমাদের সময় দিন। এরপর আদালত আদেশ দেন।