বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী এএইচএম আহসানুল হক হেনা। যুক্তি উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯ (২) ধারার অপব্যবহার করা হয়েছে। তাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) কাছে দেয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এছাড়া সাক্ষী হিসেবে আইও’র কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। একাত্তরে পুলিশের আইজিপি কে ছিলেন তা তিনি জানেন না। একাত্তরে চট্টগ্রামে এসবি অফিস ছিল কিনা তাও তিনি জানেন না। অথচ তিনি পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে মামলায় আইও’র কাছে চার সাক্ষীর দেয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন ভারতে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপনকালে আহসানুল হক হেনা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ১৯ (২) এর ধারা সন্তোষজনক নয়। কারণ এ ধারা অনুয়ায়ী আইও’র কাছে দেয়া জবানবন্দি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা ট্রাইব্যুনালের নেই। তিনি বলেন, সাক্ষী জোত্স্না বালা ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা চার নম্বর অভিযোগের সাক্ষী ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর সাত মাস আগে এ অভিযোগে সাক্ষ্য দিয়েছেন অরুনাংশু নামে একজন। আশীষ, দ্বিজয়কেও সাক্ষী হিসেবে আনা হয়েছে। কিন্তু জোত্স্না বালাকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়নি। এর কারণ ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল জোত্স্না বালা চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন, সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ঢাকা থেকে লোক এসে হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়টি জানার পর আইও এবং রাষ্ট্রপক্ষ তাকে সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আনেনি।
সাক্ষী বাদল বিশ্বাস ভারতে অবস্থান করছেন বলে আইও দাবি করেছেন। কিন্তু বাদল বিশ্বাস কোন দিক থেকে, কীভাবে, কত দিনের ভিসায় ভারতে গেছেন সে বিষয়ে আইও ভারতীয় হাইকমিশন থেকে কোনো তথ্য সংগ্রহ করেননি। তিনি প্রমাণ করতে পারেননি যে বাদল বিশ্বাস ভারতে গেছেন। তাই বাদল বিশ্বাসের সাক্ষ্যের কোনো ভিত্তি নেই। এ সময় তিনি বাকি দুই মৃত সাক্ষী জানতি বালা ও বাদশা মিয়ার দেয়া জবানবন্দিও সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্য হিসেবে কোনো কিছু গ্রহণের জন্য তিনটি বিষয় জরুরি। এ বিষয়গুলো এখানে অনুপস্থিত। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে সব অভিযোগে তারা সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করেনি। সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ৪১জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া চারজনের জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষে সালাহউদ্দিন কাদেরসহ চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
