“মোগো আবার ঈদ, প্যাডে নাই ভাত, পেন্দনে নাই কাপুড়, মোগো ঈদ অইবে পানিদ্দা, মোগোতো আর কেউ দ্যাহে না”—অশ্রুসিক্ত নয়ন ও কান্নাভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বললেন জিয়ানগরের ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিখোঁজ জেলে মুনসুরের স্ত্রী মিলন (৩৫)। স্বামীহারা মিলন তিন ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তারা ঈদের জন্য কোন নতুন কাপড় সংগ্রহ করতে পারেননি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে রেজাউল নদীতে মাছ ধরে। কোনদিন একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকা পায়, আবার কোনদিন খালি হাতে ফিরে আসে। খাবারের জোগাড়ে মিলনকে ছুটতে হয় অন্যের দুয়ারে। এভাবে চলছে তার সংসার। একইভাবে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত উপজেলার ২ সহস্রাধিক জেলে পরিবার। উপজেলার নদীর তীরবর্তী সাউদখালী, খোলপটুয়া ও পাড়েরহাট আবাসনের অধিকাংশ বাসিন্দাই জেলে। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুমে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলে সমপ্রদায়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র হতাশা। উপকূল এলাকার জেলেরা জানায়, চলতি ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই সমুদ্র ও নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরার প্রস্তুতি নেয় জেলেরা। মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন ও কেউ কেউ জমিজমা বন্ধক রেখে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গোছগাছ করে। কিন্তু নদী ও সাগরে এই মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে জেলে পরিবারগুলো। এই জনপদের যে জেলেরা গত এক মাসের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে যান তাদের অধিকাংশই ফিরেছেন খালি হাতে। এ কারণে তাদের পরিবারে নেই কোন ঈদ আনন্দ। ঈদেও মারাত্মক অর্থ সংকটে রয়েছে তারা।
